সকল নামের পূর্বে মোঃ ব্যবহার করা

মুসলমান হলেই যে তার নামের পূর্বে মোঃ দিয়ে শুরু করতে হবে, এই ধরনের কোন বিধান ইসলামে নেই। বরং এটা পালন করা একটা বড় ধরনের বিদ্‌য়াত। কয়েক বছর পূর্বে সৌদি আরব নিয়ম করেছিল যে, “যে সকল মুসলমানের নামের পূর্বে মোঃ আছে, তাদেরকে সৌদি আরবের কোন ভিসা দেয়া হবে না”। অতঃপর সে নিয়ম বহাল থাকলে বাংলাদেশের বহু লোকের পাসপোর্ট বাতিল হয় মর্মে বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় সৌদি আরবে বাংলাদেশী দূতাবাসের অনূরোধে তারা আপাতত তখনকার মত সে আদেশটি স্থগিত করেন।

ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে আরব-গন সিন্ধু বিজয়ের পর ভারত উপ মহাদেশের মানুষ সর্ব প্রথম মুসলমানদের সংস্পর্শে আসে এবং মুসলমানদের ধর্ম ও তাদের উত্তম আচরণের সংস্পর্শে এই সে বহু সংখ্যক মুশরিক মুসলমান হয়। একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায় যে, যদি কোন গ্রামের ৩০-৪০ % মানুষ একসাথে মুসলমান হয়, তাহলে নিয়মানুসারে তাদের নাম পরিবর্তন করা হলে কারো দ্বারাই কি সে সকল পরিবর্তিত নাম মনে রাখা আদৌ সম্ভব?  আমি মনে করি মোটেও সম্ভব না। সেরূপ অবস্থায় সকল নামই ঠিক রেখে মুসলমানদেরকে পৃথক ভাবে বুঝানোর জন্য প্রত্যেকের মূল নামের পূর্বে শ্রীএর পরিবর্তে মোঃ ব্যবহার করাটাই ছিল স্বাভাবিক। অর্থাৎ শ্রী রতন হল হিন্দু রতন, আর মোঃ রতন হল মুসলমান রতন। তদ্রূপ শ্রী রমেশ মানেই হিন্দু রমেশ, আর মোঃ রমেশ মানেই হল মুসলমান রমেশ।

এই নিয়মই চলতে থাকলেও মোঘল আমল পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ জমিদারই হিন্দু হয়। যার ফলে তারা পৃথক ধর্ম অনুসারে নামের পূর্বে শ্রী এবং মোঃ ব্যবহার করার নিয়ম বাতিল সহ সকল মুসলমানের নামের পূর্বেও শ্রী লেখা বাধ্যতামূলক করে। সে কারণে আজও আমাদের দুই-তিন পুরুষ পূর্বের জমির সকল দলিলে নামের পূর্বে শ্রী লেখা আছে। যেহেতু আমরা এখন ধর্ম রূপান্তরিত মুসলমান না হয়ে বরং জন্মগত মুসলমান। কাজেই নামের পূর্বে মোঃ ব্যবহার করে নিজেকে মুসলমান প্রমাণ করার কোন যুক্তি নেই। অতএব নাম রাখার সময় অর্থ বোধক এবং ইসলামী নাম রাখাটাও বাবা-মায়ের জন্য একটি বিশেষ দায়িত্ব। আমরা আমাদের সন্তানদেরকে ইসলামী নাম রেখে নামের পূর্বে মোঃ যুক্ত করা ছাড়াই কি মুসলমান প্রমাণ করতে পারি না?  অবশ্যই পারি যদি সদিচ্ছা থাকে।

আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্ব পুরুষ-গন মুসলমান হওয়া শুরু করেন বর্তমান সময় থেকে প্রায় ৭০০-৮০০ বৎসর পূর্ব থেকে, আর বেশির ভাগ বাংলাদেশী পূর্ব পুরুষ-গন মুসলমান হওয়া শুরু করেন ৪০০-৫০০ বৎসর পূর্ব থেকে; যদিও ইসলাম ধর্ম প্রচার শুর হয়েছিল প্রায় ১৫০০ বৎসর পূর্ব থেকে। ইতিহাসের তথ্যানুসারে বাংলাদেশীদের মুসলমান হওয়ার পিছনে সব থেকে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (র:)। তাঁর নামের পূর্বেও কিন্তু মোঃ নেই। এতেও কি আপনারা বুঝতে পারেননি যে নামের পূর্বে মোঃ ব্যবহার করা সঠিক কি-না?  হিন্দু প্রাধান্য এলাকায় আমাদের পূর্বপুরুষ-গনের মুসলমান হওয়া প্রায় অনেক দিন হয়ে গেলেও এখনো কিছু কিছু নাম আছে, যেগুলোর পূর্বে মোঃ ব্যবহার না করলে হিন্দু না মুসলমান, তা বুঝার কোন উপায় থাকেনা। যেমনঃ মানিক, বাদল, রতন, স্বপন, বিপ্লব, সৌরভ, কাঞ্চন, সবুজ ইত্যাদি। বরং বর্তমানে প্রতিযোগিতা চলছে যে, কে কার সন্তানের জন্য কত আধুনিক নাম রাখতে পারে। জান্নাত-জাহান্নামের দোদুল্যমান সিদ্ধান্তে নামটাও একটা বিষয় হয়ে দাঁড়াবে বৈ কি!

আমার নামের পূর্বেও মোঃ ছিল এবং এখনও সকল সার্টিফিকেটে আছে। তবে আমি আর মোঃ ব্যবহার করি না। এই জন্য যে, আমার মরহুম পিতা যে নামটি আমার জন্য রেখেছেন, তা কোন অবস্থায়ই কোন হিন্দু বা মুশরিক-গন তাদের সন্তানের জন্য রাখে না। কাজেই নামের পূর্বে মোঃ ব্যবহার করে আমি মুসলমান না হিন্দু, এটা প্রমাণ করার প্রয়োজন পরেনা। আমার ছেলের নামের পূর্বেও মোঃ যুক্ত নেই, কারণ: সে ধরনের নাম আমি তার জন্য রাখিনি। একটু লক্ষ্য করুন, কোন নবী-রসুল, সাহাবী, তাবেয়ী, তাঁবে-তাবেয়ী, আউলিয়া, দরবেশ, গাউছ, কুতুব কারো নামের পূর্বে মোঃ ব্যবহার করেছেন কি অথবা করা হয় কি?  তাই যদি না হয়ে থাকে, তাহলে ১০০% নিশ্চিত হয়ে যান যে, নামের পূর্বে মোঃ ব্যবহার করা ইসলামের কোন অংশ নয়। মানুষ না বুঝার কারণে মোঃ সর্বনাম এখনও নামের পূর্ব ব্যবহার হচ্ছে। রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাচা আব্বাস (রা:) তাঁকে মোহাম্মদ বলে ডাকত, অতঃপর আল্লহর রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ নামে না ডেকে বরং তার কুনিয়াত হিসাবে তথা আল্লহর রসুল, আল্লহর নবী ইত্যাদি নামে ডাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মূল কারণ হল যাতে কেউ দরুদ না পড়ার অভিশাপের আওতাভুক্ত না হয়। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন: –

http://www.islam-qa.com/en/ref/72249/Muhammad name

http://www.islam-qa.com/en/ref/111019/Muhammad name

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *