সন্তানদেরকে শাসনের জন্য লাঠি ব্যবহার না করা

114

যারা ধর্মের নীতিমালাকে এই কেবারে তাচ্ছিল্য করে ফেলেছে, তাদের উদ্দেশ্যে নিশ্চয়ই কবি সাহিত্যিকদের কথা বললেই ভাল হয়। কারণ: তাদের কাছে অনেক ক্ষেত্রে হাদিসের বানীর চেয়ে কবি সাহিত্যিকদের কথাই অধিক গুরুত্ব পূর্ণ। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “শাসন করা তারই সাজে, সোহাগ করে যে”। সে সাথে সূর মিলিয়ে বলতে হয়, যদি পিতা হয়ে শাসনই না করতে পারে, তাহলে সোহাগ করবে কিভাবে?  সোহাগের সাথে কি শাসনের বিষয়টি জড়িত নয়?  বর্তমানে সরকারী ভাবে শাসনের ব্যবস্থা নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কোন শিক্ষক আর ছাত্রকে শাসন করতে পারে না। কারণ: শাসন করলেই আবার সন্তানের অভিভাবকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, অবশেষে সরকারের কাছেও জবাবদিহি করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে এবং অবশেষে চাকুরী চ্যুত। কাজেই স্কুলে যাওয়া আশা করা এবং যারা যেরূপ ভাবে চলতে চায়, তাদেরকে সেভাবে চলতে দেওয়াই হল এখন শিক্ষকদের আসল কাজ। কোন ছাত্র কিভাবে লেখা-পড়া করলো, আর কার চরিত্র কেমন হল, এখন আর সে বিষয়টি শিক্ষক-গন দেখার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না।

একটু স্মরণ করে দেখবেন কি যে আজ থেকে মাত্র ২০-৩০ বৎসর পূর্বেও এই ধরনের নিয়ম ছিল কি-না?  সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের চাপে এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিমালার মুখে এখন শিক্ষক-গনও জিম্মি হয়ে গেছেন। তারা আর কোন প্রকার ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। যার ফলে আজ শিক্ষকদেরকে শ্রদ্ধা করার বিষয়টি একেবারেই শেষ হয়ে গেছে। ছাত্ররা মনে করে যে, “তাদের বাবা-মা বেতন দেয়, তাই শিক্ষক-গন পড়ায়, তাহলে তাদের আবার এত শাসন করার অধিকার থাকবে কেন?  কেন তারা পড়ার জন্য বা এক-আধটু অন্যায়ের জন্য বেত্রাঘাত করবেন”?  হায়রে দুর্ভাগা শিক্ষিত কর্মকর্তা গবেষক-গন। তারা একেবারেই ভুলে গেছেন যে, এই কড়া শাসনের মধ্যেই নজরুল ইসলাম, বিদ্যাসাগর, জসীম উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা, কুদরতই -খোদার মত মনিষী-গনের জন্ম এবং শিক্ষা হয়েছিল। তাদের সময় সরকারি ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ ছিল না। সে সময়ের এক থেকে দশ নাম্বারের সমান একজন কবিও কি এখন সৃষ্টি হচ্ছে?  এর পিছনে সবথেকে বড় কারণ হল নৈতিক শাসন ব্যবস্থা পাশ্চাত্যের মুশরিকদেরকে অনুসরণ করা।

ইসলাম শিক্ষা দিয়েছে সন্তানদেরকে যথা নিয়মে সকল বিষয় শিক্ষা দেয়ার জন্য। সেখানে ধর্মীয় ব্যাপারে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হয়নি। হাদিসের তথ্যানুসারে “সন্তানকে সু-শাসনের জন্য যে লাঠি দরজার সামনে ঝুলানো থাকে, সে লাঠি বিচার দিবসে নেক আমলের সাথে ওজন হবে”। তাছাড়া “মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন পাক কালামেও স্ত্রীদেরকে তাদের চারিত্রিক ত্রুটির জন্য তালাক দেয়ার পূর্বে তৃতীয় নাম্বার ব্যবস্থা হিসাবে প্রহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন”। সুতরাং নিঃসন্দেহে প্রমাণিত যে, সন্তানকে সু-শাসনের জন্য লাঠি একটি অপরিহার্য জিনিস। এর মানে এই নয় যে, সব সময় সন্তানকে পেটাতে হবে। তবে তাদের ক্ষুদ্র- ক্ষুদ্র অপরাধ শুরুতেই যদি দমন করা সম্ভব না হয়, তাহলে বড় হয়ে গেলে আর তাদেরকে শাসন করা কোন ক্রমেই সম্ভব হবে না। এই জন্যই কবি বলেন, “দাঁত থাকতেই দাঁতের মর্যাদা দেয়া শিখতে হবে”। কাজেই সন্তান একবার খারাপ পথে চলে গেলে আর সময় শেষে তাকে সে পথ থেকে ফেরানো সম্ভব না। ফেরাতে গেলে নিজেই মার খাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই যা করার তা সময় থাকতেই করতে হবে। এখানে অন্য কোন প্রকার বিশেষ নীতিমালা প্রয়োগে কোন কাজ হবে না। শাসনের বেলায় পিতাকে যেভাবে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, নৈতিক শিক্ষার উন্নতি জন্য ইসলামে শিক্ষককেও একইরূপ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

লক্ষ্য করে দেখবেন, যারা তাদের সন্তানকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যত্ন নিয়েছে, নিজে না খেয়ে পড়ে সন্তানের সকল চাহিদা মিটিয়েছে। সন্তানের গায়ে কোন দিন শাসনের হাত প্রদান করে দেখেনি। সে সকল সন্তান হয়তো বা রাষ্ট্রীয় কোন বড় কর্মকর্তা হয়েছে, নয়তো বিদেশে অবস্থান করছে। প্রশ্ন হল সে পিতা কি সুখে আছে?  মোটেও নেই। কারণ হল, তার পুত্রবধূর কাছে সে কখনও শশুরের অধিকার পায় না। তার উচ্চবিত্ত সন্তানের বাসায়ও পরিবেশের কারণে সে যেতে পারে না। যোগ্যতানুসারে অতি সম্ভ্রান্ত পরিবারে ছেলে বিবাহ করানোর ফলে তাদের কাছেও ছেলের বাবা হিসেবে মোটেও মর্যাদা পায় না। নাতী-নাতনীকে কোলে নিতে গেলেও স্যাভলন দিয়ে হাত ধুলাই করে নিতে হয়। আবার ছেলের বাড়িতে কোনভাবে যেতে পারলেও পরিবেশের কারণে বাসায় কোন মেহমান আসলে তাদের সামনে বের হওয়া নিষিদ্ধ থাকে। গ্রাম্য ভাষা-গত সমস্যা থাকার ফলে অন্যদের সাথে কথা বলাও নিষেধ থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি। অতএব এই সকল কিছুর কেন্দ্রে যে বিষয়টি রয়েছে, তাহলো যথা সময়ে সন্তানকে শাসন করতে না পারা এবং সন্তানের জন্য বাপ-মা কি জিনিস, তা তাদেরকে উপলব্ধি করাতে না পারা। মোট কথা হল প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনের আদেশকে মানুন এবং রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতকে আঁকড়ে ধরুন, তাহলে ইনশা আল্লহ কোন সমস্যাই থাকবে না। তবে হ্যাঁ, সন্তান যথা সময়ে তার পরিবার নিয়ে পৃথক হয়ে যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে পিতা হিসাবে মনে করা উচিৎ যে, “এটাই বিধান”। সেমতাবস্থায় নিজের মর্যাদাও যেমন ঠিক থাকবে, ঠিক তেমনি মানসিক অশান্তিতেও ভুগতে হবে না। কারণ: সন্তান কমপক্ষে এই টুকু ভাবতে শিখবে যে, “আমি আমার পিতার সাথে যে আচরণ করব, আমার সন্তানও পরবর্তী সময় আমার সাথে সে আচরণই করবে”। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/3347/sticking

http://www.islam-qa.com/en/ref/50022/hit%20to%20children

http://islamqa.com/en/ref/127233/highest%20dignity

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *