সমস্বরে সূরা হাশরের শেষের তিন আয়াত তিলাওয়াত করা

126

যে কোন আমল করার পূর্বে সে বিষয়ের শাব্দিক অর্থ বা নিয়ম সম্বন্ধে আগে জানতে হবে। হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার আউযুবিল্লাহিচ্ছামিয়িলয়ালীমিমিনাশশাইতনিররজী পাঠ করার পর সূরা হাশরে শেষের তিন আয়াত পাঠ করবে, আল্লহ তায়ালা তার জন্য সত্তর হাজার রহমতের ফেরেশতা নিযুক্ত করে দিবেনতারা সন্ধ্যা পর্যন্ত রহমতের জন্য দোয়া করবেসেদিন সে মারা গেলে শহিদের মৃত্যু হাসিল হবেযে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এই ভাবে পাঠ করবে, সেও সকাল পর্যন্ত এই মর্তবা লাভ করবেপ্রশ্ন হল এখানে ‘যে’ মানে একবচন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, কোন অবস্থায়ই যারা বা বহুবচন ব্যবহার করা হয়নি। এটা নিতান্তই একটা ব্যক্তিগত আমল। এখানে সংঘবদ্ধভাবে একজন বলবে এবং বাকি লোক শুনে পরে সবাই একসাথে চিল্লিয়ে বলবে, এই ধরনের নিয়ম কখনো ইসলাম ধর্মে শিক্ষা দেয়া হয়নি। এই টি কিছু স্বল্প শিক্ষিত ইমামদের অপরিপক্ব ভাষা জ্ঞান এবং বুঝার অভাবের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তাছাড়া ‘আগের মানুষ করেছে’ পদ্ধতিতেই আমলটি চলে আসছে।

তাই প্রত্যেকেই এই ধরনের বিদ্‌য়াত থেকে দূরে থাকুন। কারণ: ফজরের নামাজের পরে আরও অনেক ব্যক্তিগত আমল হাদিস কর্তৃক স্বীকৃত আছে। যেমন: সুরা বাক্কারার শেষের তিন আয়াত, সুরা তওবার শেষের তিন আয়াত, আয়াতুল কুরসি ইত্যাদি। তাছাড়া এই আমলটি-তো একই ভাবে মাগরিবের নামাজের পরেও হওয়ার কথা, তখন উল্লেখিত বিধান কোথায় থাকে?  অথচ এই সময়টাতে যদি নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় দোয়া সমূহের মধ্য থেকে যে কোন একটিকে নির্দিষ্ট করে তার থেকে কিছু অংশ শুদ্বরূপে শেখানোর ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে সে বিষয়টিই কি সব থেকে উত্তম নয়?  কাজেই আমল যা করবেন, তা যাতে সুন্নতের পরিপন্থী না হয়ে বরং সুন্নতের গণ্ডির মধ্যেই থাকে, সে বিষয়ে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/160967/hashor

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *