সেহেরীর সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষকে ডাকা

যে কোন রোজার উদ্দেশ্য সুবহে সাদিকের পূর্বে কিছু পানাহার করা সুন্নত। যাকে আমরা সেহেরী হিসাবে জানি। অথচ রোজার গুরুত্ব অনেকে না দিলেও ইফতারের গুরুত্ব প্রদানে কারো কোন কমতি নেই। সে সাথে সেহেরীর গুরুত্ব প্রদানে অন্য এক দলের লোক দেখানোর কোন কমতি নেই। ঢাকা শহরে সেহেরী খাওয়ার পূর্ব মুহূর্তের প্রায় এক-দেড় ঘণ্টা মাইকের ডাকা-ডাকি আর নসিহত মূলক উপদেশের কোন কমতি নেই। অথচ তাদের জানা নেই যে এভাবে যদি একটা মানুষ কিয়ামত পর্যন্ত ডাকতে থাকে, তাহলে দুই রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলতের সমান হবে না। তাছাড়া তাদের আরও জানা নেই যে, যদি এরূপ শব্দ বিভ্রাটের ফলে কোন তাহাজ্জুদ নামাজ রত মুমিনের নামাজের ক্ষতি হয়, তাহলে সে অমনোযোগী নামাজের জন্য পূর্ণ দায়ী উপদেশ প্রদান করনে-ওয়ালা ব্যক্তিদেরই হবে। সাহাবী (রা:) দের যুগে এই ধরনের ডাকাডাকির কোন বিধান মোটেও ছিল না। অবশ্য এই জন্য সাধারণ ব্যক্তিদের চেয়ে ইমাম-গনই মূলত দায়ী। কারণ: কখনও তিনি নিজে, কখনও মুয়াজ্জিন আবার কখনও কোন মুসুল্লিকেও হাম্‌দ, নাত, বা উপদেশমূলক বক্তৃতা দিতে দেখা যায়। নামাজ রত বান্দা তো দুরের কথা, গভীর রাতে এরূপ ডাকাডাকি করে কোন অমুসলিম মানুষের ঘুমের ক্ষতি করাও ইসলামে জায়েজ নেই।

২০০১-২ সনে আমি সৈয়দপুর এলাকায় আরেক প্রকারের বিদ্‌য়াত দেখেছি। তাহলো কিছু যুবক শ্রেণীর ছেলেরা মিলে সাথে ঢোল নিয়ে পেটাতে থাকে, আর সমস্বরে ভাত পাক করতে উঠার জন্য ডাকতে থাকে; যদিও তাদের অনেকে রোজাই রাখে না। পুরো এই লাকা কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে নেয়া থাকে। রোজার মাসের শেষের দিকে তারা সকল বাড়িতে যেয়ে চাঁদা বা চাউল উঠায়। এই ধরনের ধর্মীয় বিধান বা গভীর রাতে ধর্মীয় উপদেশের অনুমতি তারা যে কোত্থেকে পায়, তা একমাত্র মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই জানেন। তবে আমি মনে করি যেহেতু আমার নামাজে সমস্যা হয়েছে, সুতরাং অনেক মু’মিনেরই এই অবস্থা হয়েছে। অতএব এরূপ বাতিল পদ্ধতির ডাকাডাকি থেকে বিরত থাকুন এবং সুন্নতের পথ অনুসরণ করুন। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:    

http://www.islam-qa.com/en/ref/68826/loudspeaker

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *