সৌদি আরবের সাথে একই দিনে ঈদ উদযাপন করা

111

বিজ্ঞানের উন্নতি মানুষকে অনেক দূর এই গিয়ে নিয়ে গেছে ঠিকই, সেই সাথে মানুষ তার নিজের অস্তিত্বকেও অনেক ভুলে গেছে। তারা আদিম যুগের মানুষকে অসভ্য এবং বর্তমান যুগের মানুষকে সভ্য বলে চালিয়ে নিচ্ছে। যাহোক ইসলাম ধর্মের প্রতিটি বিষয়ই চাঁদের তারিখের সাথে নির্ভরশীল। আল্লাহর রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ছাড়”। সেই সময়ই ধর্ম বিশারদ-গন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, চাঁদ দেখা যেতে হবে মানুষের অবস্থান করার যায়গা তথা সমতল ভূমি থেকে। নীচে থেকে যদি চাঁদ না দেখা যায়, অথচ পাহাড় থেকে চাঁদ দেখা যায়, তাহলে সেক্ষেত্রে কখনোই রোজা রাখা যাবে না, কারণ: মানুষের চলাচলের অবস্থানের যায়গা থেকে কমপক্ষে দুইজন সৎ মুসলমান যদি বলে যে, তাঁরা চাঁদ দেখেছেন, তাহলে তাদের কথার উপর ভিত্তি করে সেই এলাকার রোজা রাখার যোগ্য সবার জন্যই রোজা রাখা বাধ্যতামূলক হবে।

চন্দ্র বৎসরের আহ্নিক গতি এবং বার্ষিক গতির ফলে চাঁদ সূর্যের মত সময়ের পার্থক্য নিয়ে হলেও একই রূপে আলো বিকিরণ করে না। কারণ সূর্যের পুরো অংশটাই আলোর উৎস, আর চাদের অর্ধেক অংশ আলোর উৎস। যার ফলে আজকের দিন বারটার সময় সূর্য বাংলাদেশের মাটিতে যেমন আলো দিবে, তার থেকে তিন ঘণ্টা পরে সৌদি আরবেও একই রূপে আলো দিবে। কিন্তু চাদের বেলায় সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ: আজ সৌদি আরবে যে চাঁদ দেখা যাবে, বাংলাদেশে সেই চাঁদ কখনওই দেখা যাবে না। এর মধ্যে একটাই রহস্য রয়েছে, তাহলো চাদের অর্ধেক অংশ অন্ধকার থাকা। আর এই ভাবেই মহান আল্লাহ মানুষকে দিন, মাস এবং বৎসর সমূহ গণনা করতে বলেছেন। যার ফল স্বরূপ মুসলমানদের সকল ধর্মীয় কার্যক্রম চাঁদের তারিখের উপর নির্ভর করে পালন করতে হয় এবং তা আবার নিজ এলাকা বা স্বাধীন দেশের দায়িত্ব প্রাপ্ত লোকজন কর্তৃক নিজে স্বচক্ষে চাঁদ দেখেছে মর্মে স্বীকৃত প্রদান করার পরই সেই দেশের ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করার বিধান বিদ্যমান রয়েছে।

শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মেই সকল ধর্মীয় কার্যক্রম চাঁদ বা চন্দ্র বৎসরের উপর নির্ভরশীল। অন্যান্য সকল অনৈসলামিক ধর্মসমূহে বা মুশরিক-গন সৌর বৎসরের উপর নির্ভর করেই তাদের সকল ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে পৃথিবীর সকল খৃষ্টান একই দিনে বড় দিন পালন করে থাকে, এবং সকল হিন্দু একই দিনে পূজার অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। কারণ সূর্যের একই অবস্থা পৃথিবীর সকল স্থানেই কিছুটা সময়ের ব্যবধানে হলেও একইরূপে দেখা যায়। সেই নিয়ম দেখা-দেখির পরে বাংলাদেশের কিছু অজ্ঞ মুসলমান অন্যান্য মুশরিকদের অনুকরণে সৌদি আরবের সাথেই ঈদ পালন করে থাকে। অথচ সেদিন বাংলাদেশে চাঁদ না দেখা যাওয়ার কারণে সবার জন্য রোজা রাখা ফরজ থাকে। কাজেই সেই রোজার দিনে রোজা না রেখে ঈদের অনুষ্ঠান পালন করা হারাম এবং রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ উপেক্ষা করে রোজার নির্দেশ ভঙ্গ করা হল একেবারেই কুফরি আলামত। তার পরও তাদের দাবি যে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশে একই দিনে ঈদ পালন করলে ধর্মের মধ্যে সমস্যা কোথায়?  আসলে মূল কথা হল কেউ যদি দুধ খাওয়া বাদ দিয়ে মদ খাওয়া শুরু করে, তাহলে সেই মদের অনুষ্ঠানে গিয়ে তাকে নিষেধ করলে সে মদ খাওয়া তো বন্ধ করবে-ই না, বরং নিজের শরীরটাতেই মদের গন্ধ লেগে যাবে। তাই সেই সকল গোঁড়া অমানুষগুলোর কথা না বলাই ভাল। এই বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য নিম্নের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp? -db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=4981&-format=detailpop.shtml&-find

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *