স্ত্রীর জন্য পৃথক বাড়ীর ব্যবস্থা অন্যায় মনে করা

21

স্বামী স্ত্রীর সংসার শব্দটা সৃষ্টির শুরু থেকেই চলে আসছে। তবে আগের যুগে পৃথিবীতে লোক সংখ্যা ছিল কম, কিন্তু মানুষের জন্য যায়গা ছিল বেশি। যার কারণে গৃহ সংক্রান্ত সমস্যা ছিল কম। তখন মানুষ এক যায়গায় সকলে মিলে মিশে থেকে জীবন যাপন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত। তবে ইসলামের বিধানটা তুলনা মূলক ভাবে অন্যান্য ধর্মের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ইসলামে মাহরাম এবং গায়রে মাহরাম বলতে শব্দ আছে। যাদের সাথে স্ত্রী লোকদের দেখা দেয়া যাবে কি যাবে না, সে সংক্রান্ত বিধান জড়িত আছে।

কাজেই কোন লোক বিবাহ করার পূর্বেই যদি এই ধরনের কোন প্রস্তাব আসে যে, বিবাহের পর কনের জন্য আলাদা বাড়ীর ব্যবস্থা করতে হবে, তাহলে সেটা কোন দোষের কিছু নয়। অধিকন্তু যদি বিয়ের পূর্বে কনের সাথে এই ধরনের কোন চুক্তি থাকে যে, বিয়ের পরই কনের জন্য আলাদা বাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে, এবং বিবাহের পরবর্তী সময়ে যদি বরের পক্ষে কনের সে দাবি মিটান সম্ভব না হয়, তাহলে যদি সে স্ত্রী তার স্বামীর সাথে সংসার করতে না চায়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্ত্রী সে স্বামীকে বিনা বাধায় তালাক দিতে পারবে। এই সময় বর কোন ভাবেই তার স্ত্রীকে বরের পিতার সংসারের পরিবার-পরিজনদের সাথে মিলে–মিশে থাকতে বাধ্য করতে পারবে না। তবে স্ত্রী যদি পূর্ব ওয়াদা মোতাবেক স্বামীর দ্বারা আলাদা বাড়ী করার সামর্থ্য নেই মনে করে স্বামীর পিতার পরিবারের সাথেই থেকে যায়, তাহলে কোন আপত্তি নেই। কেউ যদি বিবাহের পূর্বেই হবু স্ত্রীর জন্য আলাদা বাড়ীর ব্যবস্থা করে থাকে, তাহলেও দোষের কিছু নেই; যদিও বর্তমানে আমাদের সমাজে এই বিষয়টিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়।

বর্তমানে আমাদের মধ্যে আরেকটি ভ্রান্ত ধারনা সমাজে প্রচলিত আছে, তাহলো মানুষ মনে করে যে পুত্রকে বিবাহ করালেই তার স্ত্রীর নিকট থেকে সেবা নিতে হবে। আর এই সুযোগে শাশুড়ি এবং ননদেরা নববধূকে যথেষ্ট মানসিক কখনোবা শারীরিকভাবেও নির্যাতন করে থাকে, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এধরনের কোন বিধান প্রচলিত নেই। তবে হিন্দু ধর্মে কিছু রীতি-নীতি আছে যা দেখা-দেখি আমাদের মুসলিম সমাজে চলে আসছে; যদিও এটা একেবারেই অনৈসলামিক। ইসলাম কখনোই বৃহত্তম পরিবারকে বা যৌথ পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে সমর্থন করে না। এক্ষেত্রে জেনে রাখা উচিত যে, কোন শশুর-শাশুড়ি যদি তাদের পুত্রবধূকে কোন কিছু করার জন্য আদেশ দেয় এবং তার স্বামী অন্যটি করার জন্য আদেশ দেয়, এক্ষেত্রে স্বামীর আদেশ পালন করা সেই স্ত্রীর জন্য ফরজ অথচ শশুর-শাশুড়ির আদেশ অমান্য করার জন্য এক্ষেত্রে কোন গুনাই তার হবে না। এছাড়াও কোন অবস্থায়ই ইসলামী নিয়মে শশুর-শাশুড়ির সেবা করা বা আদেশ মানতে স্ত্রী বাধ্য নয়। তবে এমতাবস্থায় অবশ্যই স্ত্রীকে মনে রাখতে হবে যে, যদি কোন স্ত্রী তার শশুর-শাশুড়ির সেবা করে বা শরিয়তি আদেশ মান্য করে, তাহলে সে তার স্বামীর ভালবাসা তুলনামূলক ভাবে বেশি পাবে অর্থাৎ স্বামী তার উপর অধিক সন্তুষ্ট থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কাজেই শশুর-শাশুড়িকে তার পুত্রবধূর উপর কোন আদেশ দেয়ার সময় চিন্তা করে দিতে হবে যে, এই আদেশটি আমার পুত্রবধূকে দেয়ার মত আমার এখতিয়ার আছে কি-না। অযথাই নিজেরা পুত্রবধূ থেকে কোন সেবা পাচ্ছে না, এধরনের ধারনা পোষণ করলে শুধুমাত্র নিজের মনে অশান্তি বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া আর কিছুই না। এখানে অধিক গুরুত্বের সাথে মনে রাখা উচিৎ যে, পুত্রবধূ তার শশুর-শাশুড়ির আদেশ পালন না করলেও কিছু হবে না ঠিকই কিন্তু সেই সন্তানের জন্য পিতা-মাতার আদেশ পালন করা ফরজ। আর কোন স্ত্রী যদি মনে করে যে, যেহেতু স্বামীর জন্য তার পিতা-মাতার সংগত আদেশ মানা বা সেবা করা ফরজ, সেহেতু স্বামীর বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে যদি সেই দায়িত্ব স্ত্রী পালন করে তাহলে সেটি হবে ‘সোনায় সোহাগা’। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

স্বামী স্ত্রীর সংসার শব্দটা সৃষ্টির শুরু থেকেই চলে আসছে। তবে আগের যুগে পৃথিবীতে লোক সংখ্যা ছিল কম, কিন্তু মানুষের জন্য যায়গা ছিল বেশি। যার কারণে গৃহ সংক্রান্ত সমস্যা ছিল কম। তখন মানুষ এক যায়গায় সকলে মিলে মিশে থেকে জীবন যাপন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত। তবে ইসলামের বিধানটা তুলনা মূলক ভাবে অন্যান্য ধর্মের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ইসলামে মাহরাম এবং গায়রে মাহরাম বলতে শব্দ আছে। যাদের সাথে স্ত্রী লোকদের দেখা দেয়া যাবে কি যাবে না, সে সংক্রান্ত বিধান জড়িত আছে।

কাজেই কোন লোক বিবাহ করার পূর্বেই যদি এই ধরনের কোন প্রস্তাব আসে যে, বিবাহের পর কনের জন্য আলাদা বাড়ীর ব্যবস্থা করতে হবে, তাহলে সেটা কোন দোষের কিছু নয়। অধিকন্তু যদি বিয়ের পূর্বে কনের সাথে এই ধরনের কোন চুক্তি থাকে যে, বিয়ের পরই কনের জন্য আলাদা বাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে, এবং বিবাহের পরবর্তী সময়ে যদি বরের পক্ষে কনের সে দাবি মিটান সম্ভব না হয়, তাহলে যদি সে স্ত্রী তার স্বামীর সাথে সংসার করতে না চায়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্ত্রী সে স্বামীকে বিনা বাধায় তালাক দিতে পারবে। এই সময় বর কোন ভাবেই তার স্ত্রীকে বরের পিতার সংসারের পরিবার-পরিজনদের সাথে মিলে–মিশে থাকতে বাধ্য করতে পারবে না। তবে স্ত্রী যদি পূর্ব ওয়াদা মোতাবেক স্বামীর দ্বারা আলাদা বাড়ী করার সামর্থ্য নেই মনে করে স্বামীর পিতার পরিবারের সাথেই থেকে যায়, তাহলে কোন আপত্তি নেই। কেউ যদি বিবাহের পূর্বেই হবু স্ত্রীর জন্য আলাদা বাড়ীর ব্যবস্থা করে থাকে, তাহলেও দোষের কিছু নেই; যদিও বর্তমানে আমাদের সমাজে এই বিষয়টিকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়।

বর্তমানে আমাদের মধ্যে আরেকটি ভ্রান্ত ধারনা সমাজে প্রচলিত আছে, তাহলো মানুষ মনে করে যে পুত্রকে বিবাহ করালেই তার স্ত্রীর নিকট থেকে সেবা নিতে হবে। আর এই সুযোগে শাশুড়ি এবং ননদেরা নববধূকে যথেষ্ট মানসিক কখনোবা শারীরিকভাবেও নির্যাতন করে থাকে, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এধরনের কোন বিধান প্রচলিত নেই। তবে হিন্দু ধর্মে কিছু রীতি-নীতি আছে যা দেখা-দেখি আমাদের মুসলিম সমাজে চলে আসছে; যদিও এটা একেবারেই অনৈসলামিক। ইসলাম কখনোই বৃহত্তম পরিবারকে বা যৌথ পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে সমর্থন করে না। এক্ষেত্রে জেনে রাখা উচিত যে, কোন শশুর-শাশুড়ি যদি তাদের পুত্রবধূকে কোন কিছু করার জন্য আদেশ দেয় এবং তার স্বামী অন্যটি করার জন্য আদেশ দেয়, এক্ষেত্রে স্বামীর আদেশ পালন করা সেই স্ত্রীর জন্য ফরজ অথচ শশুর-শাশুড়ির আদেশ অমান্য করার জন্য এক্ষেত্রে কোন গুনাই তার হবে না। এছাড়াও কোন অবস্থায়ই ইসলামী নিয়মে শশুর-শাশুড়ির সেবা করা বা আদেশ মানতে স্ত্রী বাধ্য নয়। তবে এমতাবস্থায় অবশ্যই স্ত্রীকে মনে রাখতে হবে যে, যদি কোন স্ত্রী তার শশুর-শাশুড়ির সেবা করে বা শরিয়তি আদেশ মান্য করে, তাহলে সে তার স্বামীর ভালবাসা তুলনামূলক ভাবে বেশি পাবে অর্থাৎ স্বামী তার উপর অধিক সন্তুষ্ট থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কাজেই শশুর-শাশুড়িকে তার পুত্রবধূর উপর কোন আদেশ দেয়ার সময় চিন্তা করে দিতে হবে যে, এই আদেশটি আমার পুত্রবধূকে দেয়ার মত আমার এখতিয়ার আছে কি-না। অযথাই নিজেরা পুত্রবধূ থেকে কোন সেবা পাচ্ছে না, এধরনের ধারনা পোষণ করলে শুধুমাত্র নিজের মনে অশান্তি বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া আর কিছুই না। এখানে অধিক গুরুত্বের সাথে মনে রাখা উচিৎ যে, পুত্রবধূ তার শশুর-শাশুড়ির আদেশ পালন না করলেও কিছু হবে না ঠিকই কিন্তু সেই সন্তানের জন্য পিতা-মাতার আদেশ পালন করা ফরজ। আর কোন স্ত্রী যদি মনে করে যে, যেহেতু স্বামীর জন্য তার পিতা-মাতার সংগত আদেশ মানা বা সেবা করা ফরজ, সেহেতু স্বামীর বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে যদি সেই দায়িত্ব স্ত্রী পালন করে তাহলে সেটি হবে ‘সোনায় সোহাগা’। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/144557/gift

http://islamqa.com/en/ref/6388

https://islamqa.info/en/2083

https://islamqa.info/en/140687

https://islamqa.info/en/103426 

You may also like...

15 Responses

  1. CarloATulley says:

    I was curious if you happen to considered changing the layout of
    your respective site? Its well written; I really
    like what youve reached say. But perhaps you could a
    tad bit more when it comes to content so people could interact with it better.

    Youve got a great deal of text for just having one
    or two images. You may could space it all out better?

  2. LudieCStears says:

    Good day! I could have sworn I’ve gone to this website before but after browsing through a number of the posts I realized it’s
    new to me. Regardless, I’m definitely pleased I discovered it and I’ll be bookmarking it and checking back regularly!

  3. ZelmaHHowson says:

    Excellent website. A good amount of useful info here.
    I am sending it to some pals ans additionally sharing in delicious.
    And obviously, thanks to your sweat!

  4. DarcyYCoates says:

    Its not my first time to pay a quick visit this web site, i am
    browsing this website dailly and get nice information from here every day.

  5. RoxieMBozich says:

    Hey I know this is off topic but I was wondering if you knew of any
    widgets I could add to my blog that automatically tweet
    my newest twitter updates. I’ve been looking for a plug-in like this for quite some time and was hoping maybe you would
    have some experience with something like this. Please
    let me know if you run into anything. I truly enjoy reading your blog and I look forward to your new updates.

  6. OscarNElkins says:

    If some one wants to get updated with latest technologies then he has to be pay a visit this website and be current every single day.

  7. CieraLKawell says:

    I am in fact happy to read this blog posts which carries plenty of helpful data, thanks for providing such data.

  8. LannieWYeddo says:

    Hi there, all is going well here and ofcourse every one is sharing information, that’s genuinely
    excellent, keep up writing.

  9. NoahGLaurens says:

    I feel the admin with this website is actually making an effort in support of his web site, as
    here every material is quality based stuff.

  10. DeanaYStiern says:

    Howdy, i read your website occasionally and i own the
    same one and that i was just wondering when you get a great deal of spam comments?
    If exactly how do you stop it, any plugin or what you can suggest?
    I recieve so much lately it’s driving me crazy so any assistance is very much appreciated.

  11. EleneBDelapp says:

    There exists certainly a good deal to find out about
    this topic. I really like each of the points you’ve made.

  12. SteveJTackes says:

    Hello There. I discovered your weblog the usage of msn. That is certainly a
    very smartly written article. I’ll make sure to bookmark
    it and return to read extra of the useful info.

    Thanks for the post. I’ll certainly return.

  13. WaltonNTrejo says:

    I had been extremely pleased to uncover this brilliant site.
    I have to to many thanks to your time just for this fantastic read!!
    I definitely enjoyed every little bit of it and i also do you have
    saved as a favorite to think about new stuff with your website.

  14. DwayneILoner says:

    Good post. I learn something totally new and challenging on websites I
    stumbleupon every day. It will always be interesting to read through
    content from other writers and practice something from their sites.

  15. Mina says:

    Have you ever thought about including a little bit more than just your articles? I mean, what you say is valuable and all. However imagine if you added some great visuals or videos to give your posts more, &##082;pop&82221;! Your content is excellent but with pics and clips, this site could definitely be one of the best in its field. Great blog!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *