স্ত্রীলোকদের চুল কাটা নিষিদ্ধ মনে করা

101

আমাদের উপমহাদেশীয় রক্ষণশীল সমাজে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে এখনো প্রচলিত আছে যে, মেয়েদের চুল কাটা উচিৎ নয়। অথচ সহীহ হাদিস কর্তৃক লিপিবদ্ধ আছে যে, “রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী-গনও চুল ঘার পর্যন্ত খাট করে ছেঁটে রেখেছেন”। চুল লম্বা করে রাখার বিধান কেবল হিন্দু রক্ষণশীল মহিলাদের জন্যই বাধ্যতামূলক। কারণ: তাদের কাল্পনিক দেবীগণ অনেক লম্বা চুলের অধিকারী। তাছাড়া বিবাহিত হিন্দু মহিলাদের জন্য কমপক্ষে মাথার সিঁদুর পর্যন্ত চুল বের করে রাখা সর্ব সম্মতিক্রমে বাধ্যতামূলক। আর যাদের বিয়েই হয়নি, তাদের জন্য চুল ঢেকে রাখার-তো কোন প্রশ্নই উঠে না। সেক্ষেত্রে মুসলমান মহিলাদের জন্য বিবাহিত-অবিবাহিত নির্বিশেষে চুল বের করে রাখা হারাম। মুসলমান মহিলাদের জন্য চুল লম্বা করাতে নিষেধ নেই, তবে যারা লম্বা চুল রেখে স্যাম্পো করে অপর পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বাহিরে চুল খুলে ঘুরে বেড়ায়, তারা নিঃসন্দেহে জাহান্নামের একটি টিকিট সাথে নিয়েই চলতে অভ্যস্ত। বর্তমানের কিছু আধুনিক মনা নামে মাত্র মুসলমান বা গরু খাওয়া অথবা পিতার নামানুসারে মুসলমান মহিলা-গন যুগের ফ্যাশন স্বরূপ তাদের মাথায় সিঁদুর মাখছে। এতে নাকি তাদের সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বা সুন্দরী দেখায়। আল্লাহ তাদের হেফাজত করা ছাড়া আর কোন উপায়ই নেই।

স্মরণ রাখা দরকার যে, কোন অবস্থাতেই সামনের চুল কাটা যাবে না। বর্তমান সময়ে মহিলাদের সামনের কিছু চুল কেটে মুখের উপর দিয়ে ছড়িয়ে রাখা একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা উচিৎ যে, মহিলাদের সামনের চুল কাটা হারাম। তাছাড়া মুসলমান মহিলাদের জন্য চুল রাখা ফ্যাশন মনে করা উচিৎ নয়; বরং মনে করা উচিৎ যে প্রাকৃতিক বিধানের কারণে পুরুষদের থেকে আলাদা প্রকাশ করার জন্যই চুল রাখা হয়েছে, অন্য কোন কারণে নয়। অধিকন্তু মুসলিম মহিলাদের চুল যখন সব সময় হিজাবে ঢাকা থাকারই কথা, তখন চুলের ফ্যাশনের কথা চিন্তা করার সময় পায় কিভাবে?  বরং চুল যদি বেশি লম্বা থাকে, তাহলে গোসলের পর চুল শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগবে। আর এই অজুহাতেই চুলকে জনসম্মুখে খুলে রাখার সুযোগ পায়।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় পুরুষদের জন্য ফরজ গোসলের বিধান হল, একটা চুলের গোরাও যদি শুকনা থাকে, তাহলে শরীর পবিত্র হবে না। অপর পক্ষে মহিলা গন যদি চুলে বেণী করা অবস্থায় থাকে, তাহলে সে বেণী খোলারও প্রয়োজন হবে না, বরং তিন চোল পানি মাথার চাঁদিতে বয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে। গোসলের সময়ে বেণী না খুলার ব্যাপারে এরকম একটি বিধানের সন্দেহে পরে একজন মহিলা সাহাবী আয়েশা (রা:)এর মাধ্যমে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন, “আমি ফরজ গোসলয়ের ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি”। রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাব দিলেন, “আমি ফরজ গোসলের বিষয়েই বলেছি”। তাহলে চিন্তা করে দেখুন, এরকম অবস্থায়ও চুল না ভিজিয়ে বরং শুকনো রেখেই মহিলাদেরকে পবিত্র হওয়ার বিধান জারি করা হয়েছে। কারণ: ভেজা চুলের অজুহাতে যাতে তারা চুল খোলা না রাখতে পারে। একটি হাদিসে আছে, “যে গৃহের মহিলা চুল খুলে ঘুরে বেড়ায়, সে গৃহে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।

আরেকটি বিষয় মহিলাদের জানা উচিৎ যে, রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিবরাইল (আঃ) যখন প্রথম এসেছিলেন, তখন পরীক্ষা স্বরূপ খাদিজা (রা:) তাঁর মাথার কাপড় ফেলে দিয়েছিলেন। সে মুহূর্তেই কিন্তু ফেরেশতা অদৃশ্য হয়েছিলেন। বিষয়টির সন্দেহ দূর করার জন্য যখন খাদিজা (রা:) তদানীন্তন ধর্ম বিশারদ তার চাচাত ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলেন, সেমতাবস্থায় দেখা ব্যক্তির সত্য –মিথ্যা যাচাই করার জন্য একমাত্র চুল খোলা থাকাটাই ছিল পরীক্ষার জন্য সব থেকে বড় মাধ্যম। কাজেই সকল মুসলমান মহিলা-গন সাবধান। মনে রাখবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার চুল খোলা আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আপনার আশে- পাশে কোন ফেরেশতা নেই। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/1192/ruling of hair cutting

http://www.islamqa.com/en/ref/1172/ruling%20of%20hair%20cutting 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *