হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে অজু ভংগ হয় মনে করা

55

অজু ভঙ্গের যে কয়টি কারণ আছে, তার মধ্যে কি হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে অজু ভাঙ্গবে, এই ধরণের কোন তথ্য আছে?  অথচ আমাদের সমাজের বেশির ভাগ মানুষ জানে যে, হাঁটুর উপরে কাপড় উঠলে অজু ভেঙ্গে যায়। হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে অজু ভাঙ্গার বিষয়টি মনে করার পিছনে একমাত্র কারণ হল বিষয়টি না জানা যে, পুরুষ মানুষের জন্য হাঁটুর নিচ থেকে নাভির উপর পর্যন্ত স্থানকে বলে ছতর। আর মহিলাদের জন্য হাতের কব্জির বাহিরে, মুখমণ্ডল এবং টাকনার নীচে ছাড়া বাকি সর্ব অঙ্গই ছতর। আমার প্রশ্ন হল, যে সকল আলেম-গন সাধারণ মানুষকে এই ধরনের তথ্য দিয়ে থাকে, তারা নিজেরা কতটুকু ঠিক আছে, তা অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়। সাধারণ ভাবে কোন আলেমই হাঁটুর উপর কাপড় উঠাতে রাজি নয়, অর্থাৎ তারা সব সময় দায়েমী ফরজ আদায় করে চলেন। প্রশ্ন হল, তারা কি তাদের স্ত্রী, কন্যা ও মাতাকে ছতর মতাবেক সব সময় ফুল হাতা ব্লাউজ পরিয়ে থাকেন?  একজন মহিলার প্রয়োজনে হাতের কনুই সহ আরও কিছু উপরে কাপড় উঠিয়ে কাজ করলেও যদি অজু না ভাঙ্গে, তাহলে পুরুষ মানুষের নিজস্ব প্রয়োজনে হাঁটুর উপরে কাপড় উঠলে অথবা উঠালে অজু ভাঙবে কেন?  তাহলে তারা মহিলাদের ছতর পুরুষদের থেকে খোলা-মেলা থাকা বৈধ মনে করেন কি-না, তা আদৌ বুঝে আসে না। গায়রে মাহরামদের জন্য মহিলাদের হাতের কব্জির উপরে আর পুরুষদের হাঁটুর উপরের মধ্যে ছতরের দিক দিয়ে কোন পার্থক্য নেই। তবে মাহরামদের জন্য মহিলাদের কুনুই পর্যন্ত আলাদা ব্যপার।

সহিহ হাদিসে আছে, “একদা এক ব্যক্তি তার লুঙ্গী (টাকনার নীচে) ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল। তখন রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “যাও, অজু করে এসো”। সে গিয়ে অজু করে এই লে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, “ইয়া রসুলুল্লাহ ! তাকে কেন অজু করতে নির্দেশ দিলেন?  তিনি উত্তর করলেন, “সে তার লুঙ্গী ঝুলিয়ে সালাত আদায় করছিল। আল্লাহ সে ব্যক্তির সালাত কবুল করেন না, যে তার লুঙ্গি (টাকনার নীচে) ঝুলিয়ে পরে”। অতএব উপরোল্লিখিত হাদিসের তথ্যে দেখা যায় যে, নামাজের মধ্যে টাকনার নীচে কাপড় নামলেই বরং অজু করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাঁটুর উপরে কাপড় উঠলে অজু ভাঙবে, এই ধরনের কোন তথ্য হাদিস কর্তৃক প্রমাণিত নেই। এই বিষয়টি হল পূর্বে থেকে প্রচলিত শ্রবণীয় বিধান। সবচেয়ে আসল কথা হল মুসলমানদের পোশাক সর্বদায়ই হওয়া উচিৎ কাফির-মুশরিকদের থেকে আলাদা। মুসলমান পুরুষদের যে ধরনের পোশাকের বিধান রয়েছে, মুশরিক মহিলা-গন প্রায়ই সেই ধরনের পোশাক পরে, আর মুসলমান মহিলাদের জন্য যে ধরনের পোশাকের বিধান রয়েছে, মুশরিক পুরুষ-গন সে ধরনের পোশাক পরিধান করে।

হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে অজু ভাঙ্গে, একথা যারা বলে থাকেন, তারা কি তাদের পরিবারের মহিলা-দেরকে পর্দা মোতাবেক পরিচালনা করেন?  ইসলামে মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্যে কোন বিধান চালু করা হয়নি, বরং এখানে মানুষের সহযোগিতার জন্যই রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে বিভিন্ন বিধান চালু করা আছে। অতএব হাঁটুর উপর কাপড় উঠলে যেমন অজু ভাঙ্গে না, ঠিক তেমনি পুরুষ মানুষের বিশেষ প্রয়োজনে হাঁটুর উপর কাপড় তুলে সে কাজটি সম্পন্ন করলে তাতে দোষের কিছু নেই। তবে কেউ যদি ইচ্ছা করেই বা অপ্রয়োজনীয় ভাবে হাঁটুর উপর কাপড় উঠায়, তাহলে অবশ্যই তার গুনাহ হবে। কারণ এক হাদিসে রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী (রাঃ) কে বলেন, “হে আলী, তোমার উরু উন্মুক্ত করবে না এবং কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তির উরুর দিকেও তাকাবে না”। এখানেও একটা ইংগীত দেয়া হয়েছে যে, যদি কেউ তার প্রয়োজনে উরু বা হাটুর উপরে কাপড় তোলে, তাহলে সেই দিকে কারো দৃষ্টি দেয়া বৈধ নয়। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2010/3/wuzu-1.htm 

You may also like...

1 Response

  1. Msdis.ru says:

    What’s up mates, its impressive piece of writing
    on the topic of cultureand fully defined, keep it up all the time.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *