হাদিসের নিয়ম বহির্ভূত উপায়ে পানাহার করা

http://www.dreamstime.com/royalty-free-stock-photography-fat-man-eating-two-hamburgers-watching-tv-home-image43139897

রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা দিয়েছেন যে, “তোমরা পানাহার করার সময় পেটকে তিন ভাগ করে তার এক ভাগ আহার, এক ভাগ পান, এবং এক ভাগ রোগ প্রতিরোধের জন্য খালি রাখবে”। বর্তমানে আমরা কি সে নীতিমালা মেনে চলছি?  যার ফলশ্রুতিতে আমরা রোগকে আমাদের নিত্য সঙ্গী করে নিয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা যখন খানা খাই, তখন কতটুকু খাব, তার কোন পরিমাণ ঠিক রাখতে পারি না। তৃপ্তির ঢেকুর না আসা পর্যন্ত আমাদের খাওয়া চলতেই থাকে। আগের লোকজন সুন্নতের পরিপন্থী জোড়-আসন পদ্ধতিতে বসে খানা খেত। বর্তমানের আধুনিক সভ্যতার নামধারী লোকজন আর এক ধাপ অগ্রসর হয়ে ডাইনিং টেবিলে খানা খায়। ফলশ্রুতিতে তাদের পেটও জাপানী রুই মাছের মত ফুলতে থাকে। যাকে বাংলা ভাষায় বলে ভুঁড়িওয়ালা মানুষ।

মনে রাখবেন, মানুষের পেট যত মোটাই দেখা যাক না কেন, যদি সে দুই হাঁটু সোজা করে বসতে পারে বা বসে খানা খেতে পারে, তাহলে তার স্বাস্থ্য ঠিকই আছে। সূ-স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য এর চেয়ে বড় কোন মাধ্যম আর নেই। যতগুলো মানুষের পেট মোটা আছে, তাদের ১% মানুষও নেই; যারা পরিপূর্ণ সুস্থ আছেন। বেহেস্তের জেওরের প্রথম দিকে আশরাফ আলী থানভী(র:) একটি হাদিসের বরাত টেনেছেন, তাহলো “পেট মোটা আলেমকে আল্লহ পছন্দ করেননা”। মানুষের পেট মোটা হওয়ার একমাত্র বৃহত্তম কারণ হল বেশি খাওয়া। আর যে ব্যক্তি বেশি খাবে, সে অবশ্যই ইবাদত-বন্দেগী কম করতে পারবে। বেশি খাওয়াটা কোন ব্যাপার না, ব্যাপার হল প্রত্যেকের দৈহিক পরিশ্রমের সাথে খাদ্যের পরিমাণ ঠিক রাখতে পারা। একজন দিন মজুর বা রিক্সা চালক সম্ভ্রান্ত বা ধনশালী ব্যক্তিদের চেয়ে অনেক বেশি খেলেও তাদের পেট মোটা হয় না। কারণ: তারা শরীরের জ্বালানি হিসাবে যে খাদ্য গ্রহণ করে, তা তাদের পরিশ্রমের মাধ্যমে খরচ হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে পেটে চর্বি জমার সুযোগ পায় না বা পেট মোটা হয় না অপর পক্ষে বড়লোক-গন শুধুমাত্র চোখের দেখা অনুসারে পছন্দমত বাজার করে খাদ্য পরিবেশনের সময় চোখের তৃপ্তি লাভ করতে পারে। ডাক্তারের বিভিন্ন নির্দেশিকা থাকার কারণে সেগুলো খেতে পারেনা। অবশেষে তা কাজের মানুষরা উচ্ছিষ্ট বা অতিরিক্ত হিসাবে ভোগ করে। তাই সুন্নত এমন একটি বিধান, যাকে অনুসরণ করলে চিকিৎসার জন্য সহজে ডাক্তারের দ্বারস্থ হতে হয় না। হাদিসের তথ্যানুসারে প্রতিজন ব্যক্তির জন্য খাদ্য মায়ের পেটে থাকতেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। যে ব্যক্তি তা আগেই খেয়ে ফেলবে, সে মৃত্যুর পূর্বে না-খাওয়া অবস্থায়ই মারা যাবে। আর যে ব্যক্তি পরিমিত খাবে, সে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সাধারণ নিয়মে খেয়ে যাবে। কারণ: পৃথিবীতে কারো রিজিক থাকা অবস্থায় আজরাইল (আঃ) দ্বারা জান কবজ করা সম্ভব না।

আমার পিতা ৮২ বৎসর বয়সে মৃত্যু বরন করলেও ৮১ বৎসর বয়সে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রথম বারের মত একজন এম.বি.বি.এ স. চিকিৎসকের দ্বারস্থ করেছিলাম। অথচ তিনি ব্রিটিশ আমলের একজন শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন। যাহোক আমি ডাক্তারকে বিষয়টি বলার পর ডাক্তার সাহেব অনেক সময় আমার পিতার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। উল্লেখ্য আমার জীবনে এক দিনের জন্যও আমি তাঁকে পিড়ি, বা ফিরায় বসে খানা খেতে দেখিনি। তিনি স্বাস্থ্য এবং শারীরিক সুস্থতা সম্পর্কে এতই সচেতন ছিলেন যে, মৃত্যুর এক ঘণ্টা পূর্বেও নিজের সংগৃহীত পানি দিয়েই অজু করে নামাজ পড়েছিলেন। তিনি সহজে অন্য কারো সাহায্য নিতে পছন্দ করতেন না। তিনি পানিও খেতেন সীমিত পরিমাণের এবং বলতেন যে, “পানির অপর নাম জীবন, আর অত্যধিক পানি পান করা-ই বর্তমানে মানুষদের জন্য সব থেকে বেশি ক্ষতির কারণ”।

একটু চিন্তা করুন মানুষ পানি পান করে মুখ দিয়ে, আর তা বের হওয়ার যায়গা হল পাঁচটি যথা: ১। প্রস্রাবের রাস্তা, ২। পায়খানার রাস্তা ৩। শ্বাস –প্রশ্বাস, ৪। চোখ এবং ৫। শরীরের লোমকূপ। বর্তমানে মানুষ ২০০ গজ রাস্তাও রিক্সা বা যানবাহনে চলতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তারা যেখানে যায় সেখানেই ফ্যানের বাতাসে অথবা এই .সি. তে থাকে। সেক্ষেত্রে শরীরের বৃহত্তম ক্ষেত্র তথা ঘামের মাধ্যমে পানি বের হওয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে। অথচ এই অবস্থায় ডাক্তার-গন বলেন দৈনিক কমপক্ষে ৮ লিটার পানি খাওয়ার জন্য। এতে আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সে পানির প্রায় সকল অংশই প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে বের হবে। প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে যতটুকু পানি বের হওয়ার কথা, তার থেকে যদি বেশি পানি বের হয়, তাহলে এক সময় সে রাস্তার নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য, যার অপর নাম হল বহুমূত্র। বাংলাদেশের এক জরিপে দেখা গেছে যে, দেশের ৭০% মানুষ কোন না কোন ভাবে বহুমূত্র রোগে জড়িত।

আমি স্বীকার করি যে, নিয়মিত পানি খেলে চেহারাটা টুল-টুলে দেখা যায়; কিন্তু সেই টুল-টুলে চেহারার সাথে কিছু বিপদ থাকাই স্বাভাবিক। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি আমার এক প্রতিবেশী ২০১০ সনে হজ্জে যাওয়ার সময় মেডিক্যালে তার বহুমূত্র রোগ চিহ্নিত হওয়াতে হজ্জে গমন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পরে; যদিও আমরা তাঁর এই রোগ সম্বন্ধে আগেই জানতাম। যাহোক রোজার মাসের পরেই তার চূড়ান্ত মেডিক্যাল টেস্ট এর দিন ধার্য হল। তিনি পূর্ণ এক মাস রোজা রাখার পর মেডিক্যাল টেস্টে সম্পূর্ণরূপে উপযুক্ত প্রমাণিত হওয়াতে বিনা বাধায় হজ্জ পালন করে এসেছেন। অতএব বহুমূত্র রোগের একমাত্র এবং বৃহত্তম কারণ হল অধিক পানি খাওয়া। চিকিৎসক-গন তাদের নীতিমালায় অনেক কিছুই পরিবর্তন করলেও হাদিস তথা সুন্নতের বিধানের কোন পরিবর্তন নেই। কারণ সুন্নত হল মানুষের জন্য চিরস্থায়ী বিধান। তাই সুন্নতের প্রতিটি নীতিমালা অনুসরণ করে খাদ্য নীতিমালা তৈয়ার করুন এবং প্রায় সকল প্রকার রোগ থেকে নিরাপদ থাকুন। তাই এই উপলক্ষে আমার বলতে ইচ্ছে করে –

কবি লিখেছিল যবে স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল,                                                                             তদানীন্তন চিন্তা আজি ফলেছে বৃহত্তম ভুল।

স্বাস্থ্যের যাগায় হবে সু-স্বাস্থ্য করিতে বদল,                                                                            স্বাস্থ্যের সাথে সদা ঘুরে সকল রোগের দল।

যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/124608/eating%20ruling

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/BLOOD.htm 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *