হালখাতার অনুষ্ঠান পালন করা

হাল খাতা মানেই হল নতুন খাতা। ব্যাপারটি এমন যে, আমাদের দেশের তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় সকল ব্যবসায়ীর যায়গাগুলোই এক সময় হিন্দুরা দখল করে ছিল। সে সময় থেকেই তারা পহেলা বৈশাখে বিশাখা দেবতাকে পূজা দিয়ে ব্যবসার জন্য নতুন বৎসরের খাতা খুলত। আর এই নতুন খাতা খোলার কারণে তাদের পুরাতন খাতার সকল ক্রেতাকে একত্র করে একটু প্রসাদের ব্যবস্থা করত। উল্লিখিত দাওয়াতেই তাদেরকে পূর্বের বৎসরের বকেয়া পরিশোধের জন্য একটা তাগিদ দেয়া থাকত। তাছাড়া ক্রেতা-গনও এই বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল যে, হালখাতার দাওয়াত মানেই পূর্বের বৎসরের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে এবং নতুন বৎসরের খাতায় নাম লিখাতে হবে। আর সে ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই তারা সেখানে যেত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে আয়োজনে লুচি মিষ্টি দিয়ে ক্রেতাদেরকে আপ্যায়ন করা হত। প্রায় সকল স্থায়ী দোকানেই হালখাতা করার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দোকানদার-গনই আলোচনার ভিত্তিতে নিজেদের হালখাতার তারিখ সিরিয়াল হিসাবে বৈশাখের প্রথম দিনের জায়গায় জ্যৈষ্ঠ পর্যন্তও গড়িয়ে দিত।

বর্তমানে সে লুচি-মিষ্টির হালখাতা বিশাল খাদ্য পরিবেশন আয়োজনের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এখন অনেক যায়গায়ই গরু জবাই করে হালখাতার অনুষ্ঠান পালন করা হয়। নিঃসন্দেহে ইসলামের দৃষ্টিতে এই টি একটি অমিতব্যয়ী খরচ। এই হালখাতার জন্য বর্তমানে আর শুধুমাত্র বৈশাখ মাসই নির্ধারিত নেই। এখন মনে হলেই একটা খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে হালখাতার ব্যবস্থা করা হয়। মনে রাখা উচিৎ যে, কোন ব্যবসায়ীই নিজের টাকা দিয়ে হালখাতার খরচ করে না। ব্যাপারটি এমন যে, বাংলাতে যাকে বলে ‘কৈয়ের তেলে কৈ ভাজা’।

হালখাতার সাথে জড়িত থাকে বকেয়া ক্রেতাদের টাকা পরিশোধের হিসাব-নিকাশ। ইসলামের ব্যবসার পদ্ধতিতে হালখাতা বা এই ধরনের পদ্ধতির কোন চিহ্ন পর্যন্ত নেই। শুধু মাত্র তাই-ই নয়, আমি নিশ্চিত হিসাবে বলতে পারি যে, গ্রাজুয়েশন পর্যন্ত অর্থনীতির কোন যায়গায় হালখাতা নামক শব্দের সন্ধান পাইনি; যদিও সেখানে ব্যবসার সাথে জড়িত প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত প্রায় সকল বিষয় বা শব্দই আছে। হালখাতা বিষয়টি হিন্দুদের বৈশাখী পূজার সাথে জড়িত থাকলেও মুসলিম জাহানের ব্যবসায়িক শব্দ থেকে একেবারেই বাহিরে। আমি বহু চেষ্টা করেও হালখাতার সাথে জড়িত কোন ব্যবসায়িক পদ্ধতির সন্ধান করতে পারিনি। তবে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বিষয়ের উপরে হালখাতা সংক্রান্ত অনেক তথ্য ইন্টারনেটে দেয়া আছে। অতএব এই পদ্ধতি থেকে বের হওয়া ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এই কান্তই একটি ধর্মীয় দায়িত্ব।

http://www.islam-qa.com/en/ref/10843/shirk 

You may also like...

2 Responses

  1. I went over this site and I think you have a lot of good information, saved to fav 🙂

  2. Like says:

    Like!! I blog quite often and I genuinely thank you for your information. The article has truly peaked my interest.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *