১০ই মহররম বা আশুরার দিনে কারবালার ঘটনাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া

95

পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই এই আশুরার দিনে সংঘটিত হয়েছে এবং ধ্বংসও এই আশুরার দিনেই হবে। সর্বশেষের ঘটনাটি ছিল ইমাম হোসাইন (রা:)এর কারবালা ময়দানে শহিদ হওয়া। যারা মনে করেন যে, কারবালা ময়দানের ঘটনাই ১০ই মুহররমের জন্য সবথেকে হৃদয় বিদারক ঘটনা, তারা এই দিনে প্রচুর হৃদয় বিদারক ঘটনার অনেক বিষয়ই জানেন না। কাজেই যে যতটুকু জানে তার মধ্যে সর্ব শেষের ঘটনা কারবালার লোমহর্ষক ঘটনার সৃষ্টি হওয়াতে সে ঘটনাটিকেই সাধারণ মানুষ অধিক গুরুত্ব দিয়ে ধুম-ধাম করে পালন করে থাকে। আর বেশির ভাগ মসজিদের না জানা ইমাম-গন এই ১০ই মুহররমের ঘটনার জন্য ইয়াজিদ (রা:) কেই পুরোপুরি ভাবে দায়ী করে থাকে।

আমার কথা হল যেখানে বুখারী শরীফে ইয়াজিদ (রা:) কথা সরাসরি উল্লেখ করা আছে, সেখানে কোন সাহসে একজন সাধারণ ব্যক্তি হয়ে একজন সাহাবী (রা:)এর বিরুদ্ধে মতামত প্রকাশ করার সাহস পায়। তাছাড়া আজ পর্যন্তও কোন ঐতিহাসিক কোনভাবেই প্রমাণ করতে পারেননি যে, ১০ই মুহররমে ইয়াজিদ (রা:) হোসাইন (রা:) কে হত্যা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। সবথেকে বড় নির্দেশ হল, আল্লহর রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন সাহাবি (রা:)এর দোষ নিয়ে আলোচনা করতে নিষেধ করেছেন। কারণ: তাঁরা ছিলেন রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানিত সাহাবি, যাদের প্রতি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন ছিলেন পূর্ণ সন্তুষ্ট। কাজেই বাহ্যিক দৃষ্টিতে বা আলোচনায় যদিও কোন সাহাবি (রা:)এর দোষ দেখা যায়, তাহলেও রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশানুসারে সে দোষ ধরার মত ক্ষমতা পৃথিবীর কাউকেই দেয়া হয়নি। কাজেই যদি ইয়াজিদ (রা:)এর দোষ দেয়া হয়, তাহলে সে দোষের শুরুতেই দোষ দিতে হবে রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশিষ্ট সাহাবিদের একজন বা পাক কালামের ওহি লেখক হযরত মুয়াবিয়া (রা:) কে। এমতাবস্থায় সকল ইমাম সাহেবদের প্রতি সতর্ক বানী হল, ১০ মোহররম বা আশুরার দিনের গুরুত্ব বর্ণনা করতে যেয়ে একচেটিয়া ইয়াজিদ (রা:)এর ঘারে সকল দোষ চাপিয়ে নিজের আমলকে নষ্ট করবেন না এবং রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সতর্ক বানীকে উপেক্ষা করে নিজের জান্নাতকে চিরতরে হারাম করে দিবেন না।

একসময় দেখতাম মীর মোশাররফ হোসেন লিখিত ‘বিষাদ সিন্ধু’ নামের কাব্য গ্রন্থ গ্রাম বাংলার লোকদের মধ্যে থেকে একজন পড়ত এবং বাকি সবাই নীরবে শ্রবণ করত। এক সময় তাদের মধ্যে অনেকেই হাউ-মাউ করে কাঁদতে থাকত। মনে রাখতে হবে যে, মোশাররফ হোসেন সাহেব কেবল একটা উপন্যাস লিখেছেন মাত্র। কাজেই তার লেখার উপর কোন প্রকার ধর্মীয় আমল করা যাবে না। তাছাড়া গ্রন্থটি আমি নিজেও পড়ে দেখেছি যে, সেখানে গল্পটিকে মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য অনেক কিছুই লেখা হয়েছে, যে বিষয়গুলোতে ইসলামের মোটেও কোন সমর্থন নেই। কাজেই যে ইমাম শুধুমাত্র বিষাদ সিন্ধুর জ্ঞানের আলোকে কোন বিষয় মসজিদে আলোচনা করে সরা-সরি ইয়াজিদ (রা:) কে সকল ঘটনার জন্য দায়ী করেন, নিশ্চয়ই সে সমস্ত আলেমদের জন্য তাদের এই কঠিন-তম দায়ভার নিজেকেই বহন করতে হবে।

রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সময় হযরত সালমান (রা:) কে বললেন, “হে সালমান, তুমি আমাকে ঘৃণা করোনা, আর তোমার (পূর্বের) ধর্ম ত্যাগ কর”। তখন সালমান (রা:) বললেন, “হে আল্লহর রসুল, আমিতো আপনার কাছেই ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং আপনাকেই অনুসরণ করে চলছি, তাহলে আপনাকে ঘৃণা করলাম কিভাবে”?  তখন রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আরবিদের ঘৃণা করা মানেই হল আমাকে ঘৃণা করা”। তাই খেয়াল রাখতে হবে যে, ইয়াজিদ (রা:) শুধু একজন আরবি-ই ছিলেন না বরং তখনকার মুসলিম সেনাবাহিনীর একজন চৌকস সেনাপতি ছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে অনেক সাহাবি শাহাদতের মর্যাদা লাভ করেছেন। কাজেই দয়া করে সাহাবিদের সমালোচনা থেকে বেচে থাকি এবং তাঁদের ত্রুটিকে মহান মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনের বিধানের উপরই ছেড়ে দেই। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/45563/hate

http://www.islam-qa.com/en/ref/117609/hate

http://www.allexperts.com/user.cgi? m=6&catID=947&expID=104392&qID=5018311

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *