এমএলএম ব্যবসা করা

এমএলএম ব্যবসা করা

এমএলএম পদ্ধতি কিভাবে বিস্তার লাভ করে

বর্তমানে ব্যবসার নামে যে বিষয়টি সমাজ তথা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পরছে, তাহলো এম এল এম বা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ব্যবসা পদ্ধতি। আসলে এম এল এম ব্যবসাটা হল বিষয়োক্ত কোম্পানি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রান্তিক লেভেলের কর্মী-গন তাদের নিজস্ব এলাকায় কোন সদস্যকে নির্দিষ্ট অংকের টাকার বিনিময়ে সামগ্রী বা এক সাথে বিশেষ কিছু অর্থ প্রাপ্তির আশায় এই কাউন্ট করাবে। আর সে এই কাউন্ট-কৃত টাকার একটা অংশ সর্ব নিম্ন পর্যায়ের কর্মী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা পর্যন্ত আনুপাতিক হারে সবাই ভাগ পাবে। সে সাথে আরও প্রলোভন দেয়া হয় যে, ডান হাত এবং বাম হাত পদ্ধতিতে যদি আরও দুই জন সদস্য সে সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে সে-ও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের টাকা পাবে।

যাহোক উল্লেখিত পদ্ধতিতে বহু সংখ্যক কোম্পানি বর্তমানে বাংলাদেশে চলমান আছে। এম এল এম এর সদস্য হওয়ার জন্য অনেকে ক্ষেত্র বিশেষ সুদের মত বিভিন্ন নাজায়েজ পদ্ধতিতেও টাকা সংগ্রহ করতে দ্বিধা করে না। এতে সব থেকে যে মুখ্য বিষয়টি কাজ করে তাহলো, অল্প টাকা একবার খরচ করে ভবিষ্যতের জন্য স্থায়িভাবে একটা লাভ প্রাপ্তির ব্যবস্থার সৃষ্টি হওয়া। আন্তর্জাতিক ফতোয়া-বিদ-গন এটাকে একটা জুয়া হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। আর এই পদ্ধতিতে কিছু লোক এই সি রুমে বসে থেকে সাধারণ তথা নিরীহ জনসাধারণের পকেটের টাকা নিজের টাকা হিসাবে পরিকল্পনা করতে পারে। এর জন্য একজন নিম্ন পর্যায়ের কর্মীর প্রচুর মিথ্যা এবং ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিতে হয়। মাত্র কয়েক মাস পূর্বে ঢাকাতে এম এল কোম্পানিগুলো জাতীয়ভাবে একটি সেমিনারের আয়োজন করেছিল। সেদিন সাধারণ জনগণ ঝাড়ু মিছিল করে তাদের সকল আয়োজন নস্যাৎ করে দিয়েছিল। পুলিশের সহযোগিতায় সে কর্মকর্তা-গন কোনভাবে জীবন নিয়ে সে স্থান ত্যাগ করতে সমর্থ হয়েছিল। সাধারণতঃ ভুক্তভোগীরাই সে মিছিলের কর্ণ ধার ছিল।

সত্যবাদীদের জন্য এমএলএম ব্যবসা নয়।

আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি যে, যারা সত্য কথা বলে, তাদের মধ্যে একজনও এতে সার্থক হতে পারবে না। বিশেষ করে যখন কোন মানুষ একবার এই প্রতিষ্ঠানে সদস্য হয়ে যায়, তার পর থেকেই তার আসল টাকা উঠানোর জন্য বিভিন্ন লোককে বিভিন্ন অজুহাতে অনেক লোভনীয় কথা শুনিয়ে একাউন্ট করার জন্য ফুসলাতে থাকে। এই জন্য শত মিথ্যার আশ্রয় নিতেও দ্বিধা করে না। তার চেয়ে বড় কথা হল কিছু ভণ্ড তাপস মাওলানা-ও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান সমূহের সদস্য হয়ে যাওয়াতে তারা এর পক্ষে মাসয়ালা দিতেও দ্বিধা করে না। তারা অল্প কিছু কিতাবাদি পড়ে সার্টিফিকেট লাভ করেছে ঠিকই, তবে তাদের নিয়মিত কিতাব পড়ার অভাবে যথেষ্ট ধর্মীয় জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া তাদের নিজস্ব আর্থিক স্বার্থের কারণে তারা মোটেও মিথ্যা ফতোয়া দিতেও দ্বিধা করে না। প্রথমে সে সকল মাওলানা উপাধিধারী ব্যক্তিদেরকে ইমান দান করুন।

এই এম এল এম ব্যবসা সর্ব সম্মতি ক্রমে আন্তর্জাতিক ফতোয়া-বিদদের সিদ্ধান্ত অনুসারে হারাম এবং ইসলামিক সমাজ ব্যবস্থায় মুশরিক তথা অমুসলিমদের অনুকরণে পরিচালিত একমুখী স্বার্থ-যুক্ত একটি বিশেষ ব্যবস্থা। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন

http://www.islam-qa.com/en/ref/40263/MLM

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2011/3/MLM.htm

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2008/8/multi-level-marketing.htm

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2011/3/Business-Related.htm 

You may also like...