নামের পুর্বে আলহাজ্জ বা হাজী টাইটেল ব্যবহার করা

ইসলামের স্তম্ভ হল পাঁচটি। তার মধ্যে তিনটি সবার জন্য, আর বাকি দুইটি যাদেরকে আল্লহ সামর্থবান করেছেন, সে সকল বিত্তশালীদের জন্য। নামাজের বিশেষ্য হল নামাজী, রোজার বিশেষ্য হল রোজাদার আর হজ্জের বিশেষ্য হল হাজী বা আলহাজ্ব। উপরের সবগুলোই ফরজ ইবাদত। এটা আল্লহর উপর বা অন্য কারো উপর কোন দয়া বা করুণা নয়। যার সম্পদ আছে, তার জন্য আল্লহ হজ্জ ফরজ করে দিয়েছেন। কথা হল, যারা নামাজ পড়ে তারা কি নিজেদের নামের পূর্বে নামাজী হিসাবে টাইটেল ব্যবহার করে?  যারা রোজা রাখে, তারা কি রোজাদার হিসাবে টাইটেল ব্যবহার করে?  তাহলে হাজী কেন নিজের নামের পূর্বে হাজী বা আলহাজ্ব টাইটেল ব্যবহার করবে?  উনারা কি হজ্জ করতে গিয়ে দেখেনি যে, অনেক গুলো মুসলিম দেশ আছে, যাদের ছেলে-মেয়েরা হজ্জ না করলে সে ছেলে-মেয়েদের বিবাহই হয় না?  তাদের বেশির ভাগ মানুষই এই কাধিক বার হজ্জ করে, অথচ তাদের নামের পূর্বে হাজী বা আলহাজ্ব টাইটেল আছে কি?  সমগ্র মিডিল ইস্টয়ের মুসলমান কেউ নামের পূর্বে হাজী বা আলহাজ্ব টাইটেল ব্যবহার করে কি?  সবগুলো প্রশ্নের উত্তরই হবে ‘না’। তাহলে আমাদের দেশের হাজী-গন কি শুধু নাম কামাই বা কেনা-কাটা করার জন্য অথবা হাজী বা আলহাজ্ব টাইটেল অর্জন করার জন্য হজ্জ করতে যান?  তাঁরা কি আল্লহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য হেরেম শরীফে গমন করেননা?  যদি আল্লহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্যই হজ্জ করতে যান, তাহলে হজ্জ থেকে ফেরার পর থেকেই তাদের নামের পূর্বে হাজী বা আলহাজ্ব লেখার অথবা শুনার জন্য উনারা এত পাগল হয়ে যান কেন?  এই প্রশ্নের উত্তরগুলো আপনারাই বলুন।

উনারা যদি হাজী শরীয়ত উল্লাহর কথা চিন্তা করে নিজেদেরকে হাজী সাহেব বলতে বা শুনতে বেশি পছন্দ করেন, তাহলে ভুল হবে। কারণ হাজী শরিয়তুল্লাহ সুদীর্ঘ ১৮ বৎসর মক্কা শরীফে অবস্থান করেছেন এবং  প্রতি বছর হজ্জ সম্পাদন করেছেন। অতঃপর তিনি বাংলাদেশে ফিরে এই সে মানুষের মধ্যে প্রচুর কুফরি ও শিরকী কার্যক্রম দেখতে পান। তখন তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, মুসলমান গন আর কিছু আমল করুক আর নাই করুক, কম পক্ষে ফরজ আমল গুলো বাধ্যতামূলক ভাবে করতে হবে মর্মে ফরায়েজী আন্দোলন শুরু করেন। তখন থেকেই তাঁর হটাৎ আবির্ভাব এবং  তাঁকে বিশেষ ভাবে পরিচিতি বুঝানোর জন্য হাজী শরিয়তুল্লাহ হিসাবে সবাই জানতেন। একবার চিন্তা করে দেখুনতো, নবী সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুরু করে সাহাবী (রা:) তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী, চার মাজহাবের কোন ইমাম, কোন আউলিয়া, কোন কুতুব তাদের নামের পূর্বে আলহাজ্ব বা হাজী টাইটেল ব্যবহার করেছেন কি-না?  যুক্তির মাধ্যমে সাধারণ এই বিষয়টুকু নিয়ে চিন্তা করার মত বুদ্ধিও কি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন সে হাজী ব্যক্তিদেরকে দেননি?  যাহোক আলহাজ্ব বা হাজী টাইটেল ব্যবহার করা কোন মুমিন ব্যক্তির জন্যই উচিৎ নয়। একটি উদাহরণ টানা যায় এমন যে, “কোন একজন মনিবের দুইজন রাখাল আছে। একজন হাঁসের অপরজন ছাগলের জন্য। হাসের রাখাল দৈনিক অনেক গুলো হাঁস নিয়ে মাঠে যায়। সে সাথে সে মাঝে মাঝেই হাসের ডিম পানির পার্শে পরে থাকতে দেখে কুড়িয়ে নিয়ে আসে। সে জানে যে, এটা একটা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। মাঝে মাঝে মাঠে হাসের ডিম পাড়াটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কিন্তু ছাগলের রাখাল যখন হটাৎ করে একদিন একটা ডিম কুড়িয়ে পায়, বিষয়টি তার কাছে নতুন হবার কারণে তখন ঢাক-ঢোল বাজিয়ে সকল লোকদেরকে ডিম কুড়িয়ে পাওয়ার খবরটা জানাতে থাকে। আমাদের দেশের হজ্জের টাইটেলটা কি সে ছাগলের রাখালের মত নয়?  যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.allexperts.com/user.cgi? m=6&catID=947&expID=104392&qID=4968264

You may also like...