বউ ভাত বা বউ দেখানো অনুষ্ঠান করা

বর্তমান সমাজে বউ ভাত অনুষ্ঠান একটা ফ্যাশন হিসাবে দাঁড়িয়েছে। মনে করা হয় যে, যদি বউ ভাত অনুষ্ঠান না করা হয়, তাহলে একটা বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকেই বাদ পড়ে গেল। তাছাড়া সমাজের কিছু লোভী লোক তো থাকেই, যারা খাওয়ার অনুষ্ঠান ছাড়া আর তেমন কোন ভাল বিষয় বুঝে না। তারা সবসময় বউভাত অনুষ্ঠান করার জন্য বিবাহ বাড়িতে একটা চাপ সৃষ্টি করেই রাখে।

বউভাত অনুষ্ঠানে নব বধূকে সাজিয়ে-গুছিয়ে একটা চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়। আর যারা সেখানে দাওয়াতে আসে, তারা খানা খেয়ে বউ এর মুখ দেখে এবং উপঢৌকন সামগ্রী উপহার দেয়; যদিও বর্তমানে সেই পদ্ধতির পরিবর্তিত রূপে দাওয়াত-খানায় যাওয়ার সাথে সাথেই খাতায় নাম লেখিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। তার পর বাকি হৈ-হুল্লোড়ের তো অভাবই নেই। স্ত্রীর সৌন্দর্য যেখানে দেখার কথা শুধু মাত্র স্বামীর, সেখানে বউ ভাতের উছিলায় তার চেহারা দেখতে পারে সে এলাকার সকল জনগণ। অর্থ লোভই মানুষকে এত নীচে তথা বিধর্মীদের পদ্ধতির অনুকরণে নামিয়েছে। হিন্দুদের অনুকরণে এই বউ দেখানো পদ্ধতি সম্পূর্ণ হারাম। সংসার শুরু করার মুহূর্তেই যদি কোন মহিলা হারাম কার্যক্রম দিয়ে সংসার শুরু করে, তাহলে পরবর্তীতে সে মহিলার নিকট থেকে কোন বরকতময়ী কর্মবিধি তথা উত্তম ধর্মীয় কার্যক্রম আশা করা নিছক আমাবস্যার চাঁদ ছাড়া আর কিছুই না।

নব বধূকে বাড়িতে আনার পরই বেশীর ভাগ মহিলা তাদের ভাষায় বাড়ির বউ লক্ষ্মী কি-না তা যাচাই করার জন্য উঠানে এবং ঘরে পিয়াজ রসুন সহ বিভিন্ন ছোট-খাট জিনিস ছিটিয়ে রেখে নব বধূর মাথার কাপড় খুলে মাজায় বেধে দিয়ে ঝাড়ু দিতে বলে এবং দেখে যে ঝাড়ু দেয়ার সময় তাদের ছিটানো সবগুলো জিনিস বউ কুড়িয়েছে কি-না। হিন্দুদের অনুসরণে এই সকল পদ্ধতি কুফরি তো বটেই ইচ্ছা করে নববধূর মাথার কাপড় খুলে দেয়াই হল সরাসরি আল্লহর নির্দেশকে লঙ্ঘন করাঅতএব বর্তমানে প্রচলিত বৌভাত পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে হারাম হওয়ার ফলে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং বৌভাত পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসা পবিত্রতম ধর্মীয় দায়িত্ব। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/11446

http://www.islamqa.com/en/ref/10225

You may also like...