বিবাহ উপলক্ষে অত্যাধিক খরচ করা

বিবাহ ইসলাম ধর্মের একটি পবিত্রতম ধর্মীয় বিধান। বিবাহের নিয়ম সকল ধর্ম তথা নাস্তিকদের মধ্যেও বিদ্যমান আছে। তবে সামাজিকতা সব ক্ষেত্রেই ভিন্ন প্রকৃতির। আরবদের মধ্যে বিবাহ উপলক্ষে তত বেশী খরচ পূর্বেও ছিলনা এবং এখনও নেই। ইতিহাসের তথ্যানুসারে আরবরা সিন্ধু বিজয়ের পর যখন ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন রাজাদের এবং ধর্মের সংস্পর্শে আসলো, তখন তারা সে সকল রাজ্য বা রাজাদের অনেক কিছুই অনুকরণ করা শুরু করলো। ইসলামী ইতিহাসের বর্ণনানুসারে হজরত ওমর (রা:) যখন পৃথিবীর সবথেকে বৃহত্তম এই লাকার বাদশা ছিলেন, তখনও তাঁর জন্য কোন বাদশাহী ব্যবস্থা ছিল না। অথচ পরবর্তী সময়ের মুসলিম বাদশা-গন ভারত উপমহাদেশীয় রাজাদের মত হাতে বালা, কানে বালা, গলায় হার, মাথায় মুকুট ইত্যাদি ব্যাবহার শুরু করেছিলেন। সে সময় থেকেই মুসলমান-গন হিন্দুদের দেখাদেখি বিবাহের অনুষ্ঠানে এত জাঁক-জমক করতে শুরু করে। হিন্দুদের মেয়েদের বিবাহে এত খরচের কারণ হল, তারা যা খরচ করার বা উপঢৌকন দেয়ার তা বিয়ের সময়ই দিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে আর মেয়েদের জন্য বাপের বাড়ির সম্পদে কোন প্রকার অধিকার থাকেনা, আর এটাই হল তাদের ধর্মীয় বিধান। কিন্তু মুসলমানদের জন্য বিধান করেছেন স্বয়ং মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন। অতএব এখানে মানুষের নতুন করে বিধান তৈরি করার মত কিছু নেই। অর্থাৎ মেয়েদের বিবাহ হয়ে গেলেও পিতার বাড়ির একজন সদস্য হিসাবে পূর্ণ অধিকার তাদের থাকে।

এই পরিস্থিতিতে মুসলমানদের মেয়ের বিয়েতে এত বেশী খরচ করার অর্থ হল ছেলেদেরকে ঠকানো এবং আল্লহর বিধান নিয়ে তামাশা করা। কারণ: খরচ করার বেলায় হিন্দুদের মত, আর সম্পদের ভাগ নেয়ার বেলায় মুসলমানদের মত, এই দ্বৈত-নিয়মের বিধান ইসলামে নেই। বরং বিবাহের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে হাদিস থেকে শুধু একটি মাত্র তথ্যই পাওয়া যায়, তাহলো বিবাহের পর পুরুষ মানুষের জন্যে ওলিমা করার কথা। আর তার পিছনে হেকমত হল, যখন কোন একজন পুরুষ মানুষ অপর একজন মহিলাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে, তখন তার পাড়া-প্রতিবেশীদের সবাই যাতে জানতে পারে যে, এই মেয়েটি উল্লেখিত পুরুষের বৈধ স্ত্রী, অর্থাৎ সে কোন অবৈধ মহিলাকে বাড়িতে রাখেনি এবং সমাজের কাছে যেন তাকে অ-ধার্মিক কার্যক্রমের জন্য জবাবদিহিতা করতে এবং শাস্তি পেতে না হয়। তাই মুসলমানদের বিবাহে সকল প্রকার বেহুদা খরচ থেকে নিজেদেরকে সরিয়ে রাখা একটা পবিত্রতম ধর্মীয় দায়িত্ব। তবে এটা হটাৎ করেই সম্ভব নয়, বরং আস্তে আস্তে মানুষকে মূল বিষয়টা বুঝাতে হবে এবং অধার্মিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে আনতে হবে। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/165548/ceremony http://www.islamqa.com/en/ref/11446/ceremony http://www.islamqa.com/en/ref/138358/wedding%20party http://www.islamicity.org/dialogue/Q342.HTM http://www.islamqa.com/en/ref/10225/bid’ah

You may also like...