মসজিদের বাহিরে/ভিতরে বা সম্মুখভাগে অলঙ্করণ কাজ করা

হাদিস কর্তৃক বর্ণিত কেয়ামতের যে সকল আলামত গুলো লিপিবদ্ধ আছে, তার মধ্যে মসজিদ সমূহের চাক-চিক্য বৃদ্ধি এবং মুসুল্লির সংখ্যার হ্রাস হল একটি। বর্তমানে মসজিদ নির্মাণ বাবদ যে কত টাকা খরচ করা হচ্ছে এবং কত আধুনিক সরঞ্জামাদি সহকারে মসজিদ তৈয়ার করা হচ্ছে, তার কোন হিসাব কারো পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়। আগের মানুষ তুলনা মূলক ভাবে কম জানত, কিন্তু তাদের অন্তরে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনয়ের ভয় বেশি ছিল। তাদের মসজিদ ছিল সাধারণ এবং জন-সংখ্যানুসারে মুসুল্লি ছিল বেশি। কিন্তু বর্তমানে মানুষ পড়া-লেখা বেশি জানে, জ্ঞান-বুদ্ধি সবই বেশি, সে সাথে মসজিদের চাক-চিক্য তথা মোজাইক এবং টাইলসের সংখ্যাও বেশী। অথচ মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন যে বিষয়টি বেশি পছন্দ করেন তাই কম, অর্থাৎ জন-সংখ্যানুসারে মসজিদে মুসুল্লি কম।

রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “চুন –সুরকী দিয়ে মসজিদ অলঙ্কৃত করতে আমি নির্দেশিত হহনি”। হাদিসে মসজিদ অলঙ্করণ সম্বন্ধে ধিক্কার দিয়ে বলা হয়েছ, “ইহুদী খৃষ্টান যেভাবে (তাদের উপাসনালয়) অলঙ্কৃত করেছে, তোমরাও অবশ্য তা করবে”। তাছাড়া মসজিদ হল ইবাদতের যায়গা। সেখানে চোখের তৃপ্তি আনার যায়গা নয়, বরং তা হল অন্তরের তৃপ্তি আনয়নের যায়গা। তাই মসজিদের ভিতরে সাদা-সিধে রেখে নিজের অন্তরটাকে অলঙ্কৃত করলেই সব থেকে উত্তম কাজটি হয়ে যাবে, আর এতে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনও সন্তুষ্ট হবেন। এক হাদিসে আছে, “মসজিদ নিয়ে লোকেরা পরস্পর অহংকার প্রদর্শন না করা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না”।

মসজিদের নাম করণের সময়ও অনেক বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সাভার সেনানিবাসের ২ নং গ্যারিসন মসজিদের সামনে লেখা আছে ‘উপাসনালয়’। সকল ধরণের শব্দ জানা থাকা ভাল তবে অর্থ না জেনে বা তার প্রয়োগ-স্থান না জেনে ব্যবহার করা ভাল না। নিয়মানুসারে মুশরিকদের ইবাদতের স্থানকে বলা হয় উপাসনালয় (মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ইত্যাদি), আর মুসলমানদের ইবাদতের স্থানকে সর্বাবস্থায় বলা হয় মসজিদ। কাজেই মুসলমানদের ইবাদতের স্থানকে কখনো উপাসনালয় হিসাব বর্ণনা করা বা বলা যাবে না। কারণ তারা ধর্মীয় উপাসনা করে আর আমরা ধর্মীয় ইবাদত করি।

বেহেস্তের জেওরেও মসজিদের ভিতরে অলংকরণকে কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর একটি বিষয় হল, যখন মসজিদের ভিতরে কাজ হয়, তখন সর্ব প্রথমে ইমামের সামনে বা মেহরাবটারই বেশি করে যত্ন নেয়া হয়। বেশিরভাগ মসজিদের ক্ষেত্রে অল্প যায়গা যদি টাইলস করা থাকে, তাহলে সেটি হল ইমাম সাহেবের দাঁড়ানোর যায়গা বা মিহরাব। তার পর আবার বর্তমানে টাইলসয়ের ভিতরে পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রকারের বানী বা আরবি-বাংলায় লেখা বচন। এই সকল বিষয়ে সকল প্রকার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ছওয়াব হওয়ার আশায় মূর্খ মাওলানা-গণ নির্দ্বিধায় সেগুলো মসজিদের বিভিন্ন যায়গায় লাগানোর অনুমতি দিয়ে থাকেন। অথচ প্রত্যেকেই জানেন যে, নামাজ পড়া অবস্থায় কোন কিছু পাঠ করা মাকরুহ। অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও তাহলে কি ইচ্ছা করেই মানুষকে সে সকল লেখার দিকে আকৃষ্ট করা হচ্ছেনা?  যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার

http://www.islamicity.com/qa/action.lasso.asp?-db=services&-lay=Ask&-op=eq&number=356&-format=detailpop.shtml&-find

 

You may also like...