মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তওবা পড়ানো

আমাদের সমাজে একটা প্রথা বর্তমানে প্রচলিত হয়ে গেছে, তাহলো যখন কোন মানুষ মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে এই সে হাজির হয়, তখন তার জীবিত আত্মীয়-স্বজন-গন এই লাকার ইমাম সাহেবকে ডেকে নিয়ে আসে এবং তার সে মুমূর্ষু আত্মীয়কে তওবা পড়াতে বলে। প্রকৃত পক্ষে কোন ব্যক্তি সুস্থ বা জ্ঞানবান থাকা অবস্থায় যদি তওবা না করে, তাহলে এরূপ চরম মুহূর্তে তওবা করলে সে ব্যক্তির কোন কাজেই লাগবে না। এরূপ অবস্থায় যদি তওবা কবুলই হত, তাহলে সে সিরিয়ালে প্রথম থাকত ফির’আউন। কারণ: ফির’আউন যখন নীল নদে ডুবে মারা যেতে থাকে, তখন চিৎকার করে বলছিল, ’’হে মুসা, আমি স্বীকার করছি তোমার রবই সর্ব শ্রেষ্ঠ ক্ষমতা বান এবং তুমি তার রসুল। অর্থাৎ লা ই লাহা ইল্লাল্ল-হু মুসা ক্কলিমুল্ল-হ”। কিন্তু তার সে তওবা এবং দোয়া মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন কবুল করেননি। কারণ: ফির’আউন তওবা করেছিল ঠিকই, কিন্তু তা ছিল তার বিপদ-ময় মুহূর্ত। অর্থাৎ সেটি ছিল তার মৃত্যু থেকে বাচার জন্য এক আকুল আর্তনাদ; যদিও তখন তার জ্ঞান পুরো-পুরি ছিল। কাজেই একজন লোক সুস্থ থাকাবস্থায় কোন প্রকার ধর্মীয় কাজ না করে বেশিরভাগ সময়ে কুফরি-শিরকির সাথে জড়িত থেকে যখন আজরাইল (আঃ)এর কাছে তার খবর চলে যায়, তখন যদি সে তওবা করে, তাহলে সে তওবা তার জন্য কোন প্রকার কাজেই লাগবে না; যেমন ফির’আউনের কোন কাজে লাগেনি। তাই তওবা যদি প্রয়োজনই মনে করেন, তাহলে সময় থাকতে অর্থাৎ স্বাধীন ও সুস্থ থাকা অবস্থায়ই করতে হবে, নচেৎ মুমূর্ষু অবস্থায় তওবা পড়ানো শুধুমাত্র আত্মীয়-স্বজনের সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তওবা যদি করতেই হয়, তাহলে সজ্ঞানের কোন বিকল্প নেই। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2009/7/Ayat-al-kursi.htm 

You may also like...