শিশুদেরকে যথাসময়ে মকতব বা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না পাঠানো

কোন মানুষের সন্তান জন্ম গ্রহণ করার পর-পরই তার পিতা-মাতার একটা পরিকল্পনা থাকে সেই সন্তানকে শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যমে মানুষের মত মানুষ করা। যদিও আগে মানুষের সন্তান সংখ্যা বেশী থাকাতে তুলনামূলক-ভাবে সন্তানের দিকে এত বেশী খেয়াল দিত না। তারা মনে করত যে, শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব কেবল শিক্ষক বা পণ্ডিতের কাজ। কিন্তু এখন মানুষ সেই চিন্তা বা ধ্যান ধারনা থেকে একেবারেই বের হয়ে এই সেছে। এখন দেখা যায় যে, সন্তান যতটুকু লেখা-পড়ার প্রতি যত্ন নেয়, তার থেকে বেশী পরিশ্রম পিতা-মাতাকেই করতে হয়। তার প্রমাণ পাওয়া যায় স্কুলে সন্তানের ভর্তি, স্কুলে নেয়া এবং ছুটির পর স্কুলে পিতা-মাতাদের উপস্থিতি দেখে। অথচ আজ থেকে ৩০ বৎসর পূর্বেও এই ধরনের কল্পনাই করা যেত না যে, ছাত্র-ছাত্রীর চেয়ে তার পিতা-মাতাকেই সকল বিষয়ে বেশী ভাবতে হবে। আমার এই কথাগুলো বলার কারণ হল মানুষ আগের থেকে শিক্ষার দিকে অনেক বেশী সচেতন।

মুল ব্যাপারটা হল আগে সাধারণত শিক্ষার জন্য তেমন কোন প্রতিষ্ঠান না থাকলেও ধর্মীয় শিক্ষার জন্য মক্তবের কোন অভাব ছিল না। বাংলা ইংরেজি শিক্ষা ব্রিটিশ আমল পর্যন্তও শুধুমাত্র সম্ভ্রান্ত পরিবারের মধ্যেই সীমিত ছিল। পরবর্তীতে ইংরেজদের ঐকান্তিক ইচ্ছায়ই আমাদের সমাজে শিক্ষার প্রসার শুরু হয়। তখন সাধারণ মানুষ ইংরেজি শিক্ষাকে ধর্মের বিরুদ্ধে এক অস্ত্র হিসাবে মনে করত। যার কারণে মুসলমান-গন হিন্দুদের থেকে অনেক পিছিয়ে ছিল। একমাত্র সেই অজুহাতে ইংরেজ সরকারের এই দেশীয় ১০০% কর্মকর্তাই হিন্দু ছিল। যাহোক বর্তমানে ইংরেজরা সেই শিক্ষার ধারাবাহিকতায় আমাদেরকেও অনেক উপরে উঠিয়ে নিয়ে গেছে, এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকা কারোরই উচিৎ নয়। আর এটাই হয়ে গেছে আমাদের ধর্ম থেকে ছিটকে দেয়ার জন্য সব থেকে বড় হাতিয়ার। আজকের কোন মা-বাবাই তার সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার জন্য মক্তবে পাঠানোর প্রয়োজন মনে করে না। জন্মের পর থেকেই ইংরেজি এবং বাংলার বিভিন্ন তথ্য শিখাতে শুরু করে। চার বৎসর না হতেই সন্তানকে বিভিন্ন পর্যায়ের স্কুলে পাঠায়। তারপর দিন-দিন এমন পড়ার চাপ পরে যায় যে, সেই শিক্ষা ব্যবস্থার অর্ধেক পিতা-মাতা বা গৃহ শিক্ষককেই সম্পন্ন করে দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে তারা আর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ পাবে কোত্থেকে?  ফলে কিছু বড় হলেই আর সেই সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের চাপের মুখে হয়ত শিক্ষা গ্রহণ করতে যায়; কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করা আর সম্ভব হয় না। তার একটি প্রমাণ দেখতে পাওয়া যায় হাফেজিয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে প্রতি বৎসর লক্ষ লক্ষ ছাত্র শিক্ষা গ্রহণ করতে যায়। নিশ্চয়ই সেখানে পিতা-মাতার সদিচ্ছা ছাড়া এই পরিকল্পনা করাও সম্ভব না। তার পরও কতজন শিক্ষার্থী কুর’আনের হেফজ সম্পন্ন করতে পারে?  আর যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাগড়ী লাভ করে, তাদেরও অনেকে শুধুমাত্র পরিবেশের কারণে বা চর্চার অভাবে হেফজকে হারিয়ে ফেলে তথা ভুলে যায়।

কিন্তু কোর’আনের হাফেজ হওয়া ফরজে কেফায়া হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোর’আন শিক্ষার পাশা-পাশী ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করা যেখানে ফরজে আইন, অথচ সেই ধর্মীয় শিক্ষা থেকে আমরা অনেক দূরে সরে গেছি। এর পিছনে যে বিষয়টি সবথেকে বেশী কাজ করে, তাহলে আমাদের অতি উঁচুমাত্রার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। আর এই আকাশ ছোঁয়ার কল্পনা আমাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে এত দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। জীবন চলার পথে বাধ্যতামূলকভাবে কিছু ধর্মীয় দোয়া- দরুদের শিক্ষা দরকার রয়েছে। সেগুলো আমরা কুতটুকু জানি, তার উত্তর প্রত্যেকে নিজের কাছে জিজ্ঞাসা করলেই সঠিক উত্তর পেয়ে যাওয়া সম্ভব। অথচ এই ধরনের স্বাভাবিক শিক্ষা-তো দুরের কথা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত বা নামাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোই শতকরা ৯০% মুমিন জানে না বা শিখতে চেষ্টাও করে না। রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক পিতা মাতাকে আদেশ করেছেন তার সন্তানকে সাত বৎসর থেকে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার জন্য এবং দশ বছরে আর কোন ক্ষমা না করে বরং প্রহার করার জন্য। অথচ আমরা যখন সেই পদ্ধতির বিপরীতে যাচ্ছি, তখন শয়তান আমাদেরকে সর্বাঙ্গীণ-ভাবে অন্য পথে পরিচালিত করছে। আর এভাবে সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলে যখন আমরা বার্ধক্যে পৌঁছে যাই, তখন ভ্রান্ত পথে পরিচালিত আলেমদের কথায় আমরা বিদ্‌য়াতের সাথে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চেষ্টা করি। কাজেই যেহেতু আমরা মুসলমানের ঘরে সন্তান হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছি, তাই কমপক্ষে আমাদের সন্তানকে মৌলিক ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার জন্য যথা নিয়মে রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদেশ মোতাবেক মকতব বা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো বিশেষ জরুরী এবং বাধ্যতামূলক হিসাবে মনে করা প্রতিজন মুসলমানের জন্য আবশ্যক। তাই আমরা সবাই আমাদের পূর্বের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য তওবা করি এবং বয়সের দিকে না তাকিয়ে নিজে শিক্ষা গ্রহণ করি ও নিজের সন্তানকে যথা সময়ে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/331/Islamic%20education%20school

http://islamqa.com/en/ref/127233/highest%20dignity

 

You may also like...