গৃহপালিত পশু-পাখির প্রস্রাব-পায়খানার অজুহাতে নামাজ ত্যাগ করা

যাদের বাড়ি পল্লি অঞ্চলে তথা গ্রামে, তাদের মধ্যে খুব কম বাড়ীই আছে, যেখানে গরু-ছাগল তথা গৃহপালিত পশু-পাখি নেই। সুতরাং সবসময়ই তাদের সেই সকল পশু-পাখির প্রস্রাব পায়খানার সংস্রবেই জড়িত থাকতে হয়। পশু-পাখিরা-তো আর কথা বলতে পারে না যে, আমি পায়খানা বা প্রস্রাব করব। কাজেই তাদের সময় হওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে নেয় তথা প্রস্রাব-পায়খানা করে দেয়। তখন ইচ্ছার বিরুদ্ধেই মনিবের শরীরে কিছুটা ছিটা-ফোটা লেগে যাওয়াটাই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। আর সেই অজুহাতে যারা নামাজ পড়ে, এমন ব্যক্তিদের মধ্যেই অনেকে নামাজ পড়ে না। অজুহাত একটাই তাহলো কাপড় অপরিস্কার।

আসলে একটা বিষয় আমাদের জানা থাকা দরকার, তাহলো যে সকল পশু-পাখির মাংস হালাল, সেই সকল পশু-পাখির প্রস্রাব-পায়খানা কখনও আমাদের কাপড়কে অপবিত্র করতে পারে না। আমরা হাদিসে দেখতে পাই যে, কোন একজনের জন্য নয়, বরং পুরো একটি গোত্রের জন্য আল্লহর রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি উটের পাল দান করেছিলেন এবং তাদের দুগ্ধ এবং প্রস্রাব পান করার কথা বলেছিলেন। হাদিসে আরও দেখা যায় যে, রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভেড়া/ছাগল/দুম্বা ইত্যাদির খোঁয়াড়ে নামাজ আদায় করার জন্য অনুমতি দিয়েছেন। এখানে সবারই জানা থাকা দরকার যে, এমন কোন খোঁয়াড় বা গোয়াল ঘর আছে কি, যেখানে গরুর প্রস্রাব পায়খানা লাগেনি?  অথচ সেখানে কিন্তু আল্লহর রসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায আদায় করতে নিষেধ করেননি। তাহলে আমরা কিভাবে একটু প্রস্রাবের ছিটা বা পায়খানার ছোঁয়ায় নামাজ ত্যাগ করে বলে থাকি যে, “এখন আর নামাজ আদায় সম্ভব না। গোসল করেই নামাজ আদায় করতে হবে”।

এর মানে কিন্তু এই নয় যে, আমাদের কোন খাদ্য সামগ্রীতে যদি পশু-পাখির প্রস্রাব-পায়খানা লাগে, তাহলে না ধুলাই করেই খেতে হবে। কথা হল যার মাংস খাওয়া আমাদের জন্য হালাল, তার পায়খানা- প্রস্রাব কখনো আমাদের পরিধানের কাপড়কে নাপাকী করতে পারে না। যেমন: গরু, ছাগল, হাস, মুরগী ইত্যাদি। তবে যে সকল পশু-পাখির মাংস খাওয়া আমাদের জন্য হারাম, সেই সকল প্রাণীর প্রস্রাব-পায়খানা যদি আমাদের কাপড়ে লাগে তাহলে সেই কাপড় অপবিত্র হয়ে যাবে তথা সেই কাপড় দিয়ে আর নামায আদায় হবে না। যেমন: কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজী ইত্যাদি। এখানে আরও একটি বিষয় জানা দরকার যে, যদিও গোবর বা গো-মূত্র মানুষের পরিধানের কাপড় অপবিত্র করতে পারে না, কিন্তু মানুষের প্রস্রাব-পায়খানার কোন কোন অংশ যদি কাপড়ে লাগে, তাহলে সেই কাপড় না ধোলাই করা পর্যন্ত কখনও নামাজ আদায় করার মত পবিত্রতা অর্জন করবে না। দুগ্ধপোষ্য শিশুদের ক্ষেত্রে বাচ্চাটি যদি মেয়ে হয়, তাহলে কাপড়টি অবশ্যই ধোলাই করতে হবে। আর বাচ্চাটি যদি ছেলে হয়, তাহলে কাপড়ের উপরে পানি ঢেলে বা বইয়ে দিলেই পবিত্র হয়ে যাবে। তবে সেই শিশুটি যদি নিয়মিত খাবার খায়, তাহলে ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সকলের বেলাইই পূর্ণরূপে ধোলাই করতে হবে।

উটের প্রস্রাব পান সম্পর্কে আমার একটু বেশি কৌতূহল দেখা দিলে আমি এই বিষয়টি ইন্টারনেটে খুঁজে যে তথ্য পেয়েছি, তাহলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রসায়নবিদদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষের দেহে যতগুলো রোগের তথ্য এই পর্যন্ত পাওয়া গেছে, তার মধ্যে উটের প্রস্রাব সবথেকে বেশী রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। যদিও অনেক হেকিম সাহেবরা উটের প্রস্রাবকে ঔষধ হিসাবে সেবন করার পরামর্শ দেন। সেই ক্ষেত্রে জানা দরকার যে উটের প্রস্রাব সেবন করা আমাদের জন্য মোটেও হারাম না। তবে আমাদের সর্বাবস্থায় পশু-পাখির পায়খানা থেকে এড়িয়ে চলতে হবে। কিন্তু তার পরও যদি আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো কাপড়ে প্রস্রাব পায়খানা লেগেই যায়, তাহলে মোটেও এই উঁছিলা করে নামাজ ত্যাগ করা যাবে না। এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক ফতোয়া বিভাগে প্রশ্ন উত্থাপিত হলে তাঁরা এই রূপ উত্তরই দিয়েছেন। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islam-qa.com/en/ref/111786/cow%20dung  

http://www.islam-qa.com/en/ref/83423/camel%20urine 

You may also like...