সাজন নামক প্রথা পালন করা


বর্তমানে আঞ্চলিক ভিত্তিতে সাজন নামক কু-প্রথাটি সমাজে বিদ্যমান রয়েছে। এর সাথে ইসলামের ধর্মীয় বিধানের কোন মিল নেই। তবে যে কোন কু-প্রথাই যখন সমাজে একবার চালু হয়ে যায়, তা সমাজের দল-মত নির্বিশেষে এই কেবারে মিশে যায় এবং তা থেকে বেঁচে থাকা একটা বিশাল জেহাদই বটে। যে সকল ব্যক্তি-গনের সাধারণত নিজেদের তিন-বেলা খাবার যোগার করাই একটা কষ্টকর ব্যাপার, সে সকল ব্যক্তিদের জন্য যখন তার মেয়ে-জামাই বাড়ি সাজন দেয়ার সময় আসে, তখন রাতের ঘুম নষ্ট হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সেমতাবস্থায় নিজে উপোষ থেকে হলেও বাজারে বিদ্যমান সকল প্রকার সামগ্রীরই কিছু কিছু ক্রয় করে ভ্যান ভর্তি করে জামাই বাড়ি পাঠ্বাভাবিক। মেয়ের সুখের কথা ভেবেই তাই পিতা এই গুলো করতে বাধ্য হয়।

এমন কোন ধর্ম পৃথিবীতে নেই, যারা পরিবারের অন্যান্য আত্মীয় থেকে জামাইকে তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি স্নেহ-যত্ন করে না। যদিও জামাই সম্পর্কটা রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ নয়, তথাপি এই সম্পর্কটি হয় পরিবারে জন্য অতি ঘনিষ্ঠ-তম এবং সম্মানের। নিয়মানুসারে জামাই শশুর বাড়ি যাবে, আর শশুর বাড়ির লোকজন তার জন্য তুলনামূলক একটু ভাল থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে, এটাই স্বাভাবিক। জামাই অথবা আত্মীয়-স্বজনের উছিলা করে বাড়িতে একটু ভাল খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা সকল সমাজের নিয়মের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। অথচ সাজন প্রথা হল সম্পূর্ণ উলটো। অর্থাৎ বাড়িতে না খেয়ে থাকলেও জামাই বাড়িতে ঠিকই সাজন দিতে হবে, যাতে জামাই বাড়ির লোকেরা ঠিকমতো হই-হুল্লোড় করে খেতে পারে এবং সবাই মিলে মেয়েকে শুনিয়ে শুনিয়ে দুর্নাম করতে পারে যে, আর কি কি দিলে ভাল হতো এবং কি কি নেই অথবা অমুকের বাড়িতে এইরকম সাজন দিয়েছিল, আর তোমার বাপের বাড়ি থেকে কি দিল। এটা আবার বৎসরে একবার দিলেও হবে না, বরং মৌসুম অনুসারে দিতে হবে। যদি কোন কারণে সাজন দেয়া নাই যায়, তাহলে জামাই তো আর শশুর বাড়ীতে আসবেই না, বরং শশুর বাড়ির লোকদের কথা শুনতে শুনতে মেয়ের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। তাই সাজন নামক ব্যবস্থাকে সর্বাবস্থায় ঘৃণা করতে শিখুন। এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/10225/bid’ah 

You may also like...