মিনার বা স্মৃতিসৌধে পুস্প দান করা

বাংলাদেশে আর কিছু নতুন করে হোক বা না হোক তাতে কিছু যায় আসে না, তবে সরকারের ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় তাদের দলীয় নেতাদের স্মরণে মনুমেন বা স্মৃতি সৌধ তৈয়ারির প্রতিযোগিতা। হাদিসে শহীদদের জন্য এত সু-সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি যুদ্ধে মারা গেলে তার গোসল না করিয়ে বরং যে কাপড়ে তিনি শহীদ হয়েছেন, সে কাপড়েই দাফন করানোর ব্যাপারে ধর্মীয় নির্দেশ রয়েছে। কারণ: হাশরের মাঠে তারা সে রক্তাক্ত কাপড় নিয়েই উঠবে, যা হবে তাদের জন্য একটা গর্বের বিষয়।

ইসলামে ফুলের সাথে ইবাদতের কোন সম্পর্ক নেই। অথচ হিন্দু ধর্মে ফুল ছাড়া কোন পূজাই হয় না। খৃষ্টান ধর্মে ফুল ছাড়া কোন উপহারই পরিপূর্ণ হয় না। হিন্দুরা ফুল দিয়ে তাদের দেবতাদের স্মরণে পূজা করে, সে দেখা-দেখি মুসলমান-গনও তাদের পূর্বসূরিদের মৃত আত্মাকে কবরের কাছেই অবস্থানরত মনে করে সে দেবতাদের (মৃত আত্মার) উদ্দেশ্য ফুল দিয়ে স্মরণ করে। বিশেষ করে জাতীয় দিন সমূহে এবং সে ব্যক্তিদের জন্ম ও মৃত্যু দিনে তাদের উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে পূজা করা হয়। ইসলামে ফুল হল গাছে থাকার জিনিস, যা শুধু মাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ।

বাংলাদেশের কবি-গনও সম্ভবত ফুলের কদরের বিষয়টিকে বুঝতে পারেননি, যতটুকু বর্তমানের লোকেরা বুঝতে পারছে। কবি ভুল করে লিখেছেন, ”বন্যেরা বনে সুন্দর শিশু মাতৃ ক্রোড়ে”। বর্তমান অবস্থার আলোকে তাঁর লিখা উচিৎ ছিল, ”ফুল সুন্দর সৌধ মিনারে শিশু সুন্দর মসজিদে”। হিন্দুদের প্রচলিত ফুলের পূজা আজ মুসলমানের প্রায় প্রতিটি ঘরেই বিদ্যমান। আজ দেশের বিভিন্ন বিশেষ অনুষ্ঠানে ফুলের ছড়াছড়ি পরে যায়। আগে ফুল ছিল মুশরিকদের ধর্ম পালনের একটা মাধ্যম, যা বর্তমানে হয়ে গেছে মুসলমানদের সামগ্রী। এই ধরনের ফুল কোন প্রকার মিনার বা স্মৃতিসৌধে প্রদান করা হারাম। কোন মুসলমানেরই ফুল নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি মোটেও উচিৎ নয়। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/34842/ceremony 

You may also like...