পুরুষদের জন্য লম্বা চুল রাখা

আল্লহর রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল বিষয়েই প্রথম দিকে কিতাবিদের অনুকরণ করতে পছন্দ করতেন এবং তাঁর সাহাবিদেরকে একই আমল করার জন্য নির্দেশ দিতেন। এর পিছনে সবচেয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নির্ভর করত, তাহলো কিতাবিদের কাছে রসুল এসেছিলেন, তাই সে সময়ে হয়ত মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন যে বিষয়টি তদানীন্তন নবীর কাছে নাজিল করেছিলেন, বিকৃত করে হলেও সে নবীর অনুসারী-গন সে বিষয়েই আমল করে থাকেন। তাই রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে আয়াত নাজিল না হওয়া বা নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তিনি কিতাবিদের আমলকেই কিছুটা পরিবর্তন করে আমল করতেন, এবং তদানুসারে সাহাবি-গনও সে আমলেই অভ্যস্ত ছিলেন।

কাজেই দেখা যায় যে মহানবী সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম দিকে কিতাবিদের মত করে চুল লম্বা রাখতেন এবং সরাসরি পিছনের দিকে চুলকে সিঁথি করতেন। পরবর্তীতে কিতাবিদের ব্যতিক্রম হিসেবে তিনি আবার চুলের মধ্যে দুই ভাগ করে সিঁথি করতেন। তখন তিনি সহ সকল সাহাবিদেরই চুল বড় থাকাই স্বাভাবিক ছিল, কারণ: সকল সাহাবি-গনই রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অনুসরণ করতেন। উনার শেষ জীবনে সব সময় চুল খুব খাট অথবা মাথা মুন্ডিয়ে রাখতেন। মোট কথা প্রথম দিকে তিনি কিতাবিদের মত চুল রাখলেও শেষ জীবনের দিকে কিতাবিদের বা মুশরিকদের থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত করে চুল রাখতেন। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সকল ধর্ম বিশারদ-গনই চুল খাট করে রাখেন।

ওয়াইল বিন হুজুর (রা:) বলেন, “আমি রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গেলে তিনি আমাকে দেখে বললেন, “শয়তান, দুষ্ট” অতঃপর আমি বাড়ি ফিরে আমার মাথার চুল কেটে ফেললাম এবং পরের দিন সকালে আবার গেলে তিনি বললেন, ”তোমাকে কোন অভিপ্রায় নিয়ে শয়তান বলিনি, বরং তোমার বর্তমান এই অবস্থাই উত্তম”। অতএব উল্লিখিত হাদিসের আলোকে বর্তমানে আর লম্বা করে চুল রাখার কোন সুযোগই নেই। যদিও কিছু লোক এমন কি আলেম সম্প্রদায়ের অনেক ব্যক্তিই বলে থাকেন যে, এটা হল সুন্নত বাবরী। আসলে এই বিধানটি পূর্বে ছিল, কিন্তু যেহেতু রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর শেষ জীবনে চুল খাট করে রেখেছেন, তাই যদি কেউ অযথা চুলের বিষয় নিয়ে বাড়া-বাড়ি করেন, তাহলে তিনি নিতান্তই ভুল করে অথবা নিজেকে জেতানোর জন্য কথাগুলো বলেন।

উদাহরণস্বরূপ আমরা হানাফি মাজহাবে ২০ রাকায়াত তারাবির নামাজ পড়ি, অথচ প্রায় সকল সহিহ হাদিসে ব্রাকেটের মধ্যে তারাবি লিখে ০৮ রাকায়াতেরই বর্ণনা রয়েছে। এখানে উল্লেখ থাকে যে, হজরত আনাস (রা:) রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেষ জীবন পর্যন্ত খুব নিকটের এবং দীর্ঘ সময়ের সাহাবি ছিলেন। তিনি সব সময় ২০ রাকায়াত তারাবি পড়তেন, যার ফলে সহিহ হাদিসে ২০ রাকায়াতের অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও শুধু মাত্র তাঁর আমলের কারণেই বলা হয় যে, তাঁর আমল কখনও সুন্নতের বিপরীতে যেতে পারেনা। সেই মর্মে হানাফি মাজহাবের ফকিহ্‌গনও ২০ রাকায়াতই সমর্থন করেছেন। তাঁর উপরে ভিত্তি করেই আজও মক্কা শরীফ, মদিনা শরীফ, বায়তুল মোকাদ্দাসে ২০ রাকায়াত তারাবী পড়া হয়। কাজেই যেহেতু রসুল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেষ জীবনে হুজায়ল (রা:) কে চুল বড় করে রাখার জন্য শয়তান বলেছেন, তাহলে যারা এখনও লম্বা চুল রাখার জন্য বিধান দেখানোর চেষ্টা করে, তারা কি উল্লেখিত বিশেষণের বাহিরে থাকতে পারে?  মোট কথা হল তুলনামূলক-ভাবে লম্বা চুল মহিলাদের মাথায়ই থাকার কথা, সেখানে পুরুষদের লম্বা চুল কিভাবে সমর্থন করা যায়?  পুরুষদের কি সব সময় মহিলাদের বিপরীত করা উচিৎ না?  যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.allexperts.com/user.cgi? m=6&catID=947&expID=104392&qID=4989763

You may also like...