পূর্বে সম্পাদিত কর্মে ‘যদি’ শব্দের ব্যবহার করা

যখন কোথাও যদি শব্দের ব্যবহার করা হয়, তাহলে বুঝা যাবে যে, সেখানে অবশ্যই অন্য কোন বিকল্প বিষয় আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যদি শব্দের সাথে শয়তানের হাত বা শিরকের সমন্বয় থাকে। হাদিসে যদি শব্দ ব্যবহার মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ রূপে নিষেধ করা হয়েছে। তবে যদি শব্দটি বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য ব্যবহার করাতে কোন দোষ নেই। যেমনঃ (বর্তমানের বেলায়) তুমি যদি আমাকে টাকা দাও, তাহলে আমি তোমাকে বইটি দিব। (ভবিষ্যতের বেলায়) আগামী মাসে যদি তুমি ঢাকায় যাও, তাহলে আমার জন্য একটা বই নিয়ে আসবে। কিন্তু পূর্বের যে কোন ঘটনার জন্য যদি বলা সম্পূর্ণ রূপে শিরকী গুনাহ। যেমনঃ যদি তুমি কালকে আসতে, তাহলে আমি তোমাকে একটি বই দিতাম। নিয়মানুসারে গতকাল বই দেয়ার কোন অধিকার আল্লহর পক্ষ থেকে বিধানে লিপিবদ্ধ ছিল না, তাই যে কোন একটি উছিলা সৃষ্টি হয়েছে-ফলে বইটি দেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ হাদিসের তথ্যানুসারে আমাদের দৈনন্দিন ভাগ্য লিপি পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে মহান আল্লহ রব্বুল আলামীন নির্ধারিত করে লিপিবদ্ধ করেছেন। কাজেই পূর্বে যে ঘটনাটি ঘটে গেছে, তা আল্লহ রব্বুল আলামীনের-ই লিপিবদ্ধ নির্দেশ।

কাল বা পূর্বে এই করলে এই হত, এই গুলো হল মানুষের আবেগ প্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়। তবে বিষয়টি যদি সম্ভবত শব্দ দিয়ে বর্ণনা করা হয়, তাহলে দোষের তেমন কিছু নেই। যেমন কাল তুমি যথা সময়ে আসলে হয়তোবা আমি তোমাকে একটি বই দিতে পারতাম। অথবা কাল তুমি সময় মত আসলে তোমাকে একটি বই দেয়ার সম্ভাবনা ছিল। এই ধরনের বাক্যে পূর্বের বিষয়ের প্রতি একটা অনিশ্চয়তা ভাব থাকে, অর্থাৎ অন্য কোন শক্তির উপর নির্ভরশীলতার ভাব প্রকাশ পায়। কিন্তু সরা-সরি যদি শব্দের ব্যবহার করলে নিজস্ব শক্তির নিশ্চয়তা প্রকাশ করার বা হওয়ার কারণে এখানে শিরকী গুনার সৃষ্টি হয়। উল্লেখিত হাদিসের নির্দেশানুসারে ইনশা-আল্লহ আমি আমার পরিবার থেকে পূর্বের বিষয়ে যদি শব্দের ব্যবহার তাড়িয়ে দিয়েছি, তাই আল্লহ রব্বুল আলামীনের রোষানল থেকে বাচার জন্য আপনারাও আপনাদের পরিবার থেকে পূর্বের বিষয়ে যদি শব্দটিকে তাড়িয়ে দিন। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://www.islamqa.com/en/ref/10238/gift

 

You may also like...