নেকটাই ব্যবহার করা শিরক মনে করা

নেকটাই ব্যবহার করা নাজায়েজ মনে করা

নেকটাই সম্পর্কে অজ্ঞতা সরূপ ভুল ব্যখ্যা।

অনেকে নেক টাই ব্যবহারকে হারাম কাজ বা শিরকী গুনাহ মনে করেন। আসলে বিষয়টি তারা একটু উলটো বুঝে থাকেন। তাঁরা নেক টাইকে মিলিয়ে দেয় ক্রুশের চিহ্নের সাথে। যে কোন জিনিসকে ক্রুশের সাথে মিলানোর পূর্বে ক্রুশ সম্বদ্ধে প্রথমে জানতে হবে। ক্রুশ প্রমাণিত হওয়ার জন্য কয়েকটি সর্ত আছে। যেমন:

  ১। সেটি অবশ্যই যোগ চিহ্নিত হতে হবে।

  ২। যোগ চিহ্নের উপরের অংশের চেয়ে নীচের অংশ লম্ব হতে হবে।

  ৩। যোগ চিহ্নের ডান এবং বামের অংশ সমান হতে হবে।

 ৪। যোগ চিহ্নটি ব্যবহারের সময় অবশ্যই বুকের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।

আমার প্রশ্ন হল, নেক টাইয়ের সাথে উপরের কোন সর্তের মিল আছে কি?  যারা আসলে টাই সম্বন্ধে কথা বলেন, টাই কি এবং কেন ব্যবহার করা হয়, তা কিন্তু তারা মোটেও জানেন না। টাই এর শুরু শীতকালে শীতকে নিবারণের জন্য গলায় পেঁচানো অতিরিক্ত কাপড় হলেও তা পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আকার পরিবর্তন হয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। উৎপত্তি যে ভাবেই হোক, বর্তমানে টাই হল আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক শিক্ষা সনদের বাহ্যিক প্রকাশ। ইংরেজ-গন যখন এই দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেন, তখন থেকেই আমাদের উপমহাদেশে তাদের সকল পদ্ধতি অনুসরণ চলতে থাকে। আর তাদের শিক্ষার সনদের অনুসরণেই টাই ব্যবহার শুরু হয়; যদিও বর্তমানে টাই যেখানে-সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা উচিৎ যে, ডিগ্রী বা গ্র্যাজুয়েটের নীচে শিক্ষা অর্জন কারী ব্যক্তি কখনোই টাই পড়ার অধিকার রাখে না। যদিও বর্তমানে বাসার বা অফিসের দারোয়ানকেও টাই পড়া অবস্থায় দেখা যায়। এর পিছনে মূল কারণ হল, কিছু লোক হটাত করে অর্থের মালিক হয়ে কোট-টাই ব্যবহার করা শুরু করে দেয়। তারা মনে করে যে, অর্থশালী হলেই কোট-টাই পরা লাগে, তাই স্ট্যাটাস মেইনটেন করতে টাই পরে। যেহেতু মালিকই জানে না টাইয়ের মর্যাদা, কাজেই তার গেটের দারোয়ান টাই পরলে দোষের কি?  যাদের এই বিষয় গুলো নিয়ে বাদী হওয়ার কথা, তাদের চাকুরী দাতা বা মালিকই টাইয়ের যোগ্য না হয়েই টাই পরে, তাহলে সে জিজ্ঞাসা করবে কাকে?  যার ফলে টাইয়ের ব্যবহার আজ যত্র-তত্র।

নেকটাইয়ের মর্যাদা কেন বিরাজমান

ইংরেজিতে Grade থেকে Graduate শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হল ‘মানসম্মত’। সে অনুসারে যে ব্যক্তি ডিগ্রী পাস করবে, সে রাষ্ট্রের একটি মানসম্মত অবস্থানে পৌঁছুবে, যাকে বাহ্যিক ভাবে নেক টাই পরিহিত অবস্থায় দেখেই চেনা যাবে। এই ছিল নেক টাইয়ের মুল রহস্য। অথচ কিছু আলেম পূর্ণ তথ্য না জেনেই বলেন যে, নেক টাই ব্যবহার মুসলমানের জন্য হারাম বা নিষিদ্ধ। বর্তমান বিশ্বে ইসলাম ধর্মের উপরে চতুর্মূখী যে ধরনের আক্রমণ রয়েছে, সেমতাবস্থায় ডাঃ জাকির নায়েক হল একটি জীবন্ত কম্পিউটার। যিনি কাফের-মুশরিকদেরকে তাদেরই বিশ্বাসযোগ্য কিতাবের মাধ্যমেই বধ করে থাকেন। তার গলায়ও কিন্তু নেকটাই আছে। এর কারণ হল তিনি শুধু মাত্র আরবি শিক্ষায়ই শিক্ষিত নন, বরং পাশ্চাত্য শিক্ষায়ও উচ্চ শিক্ষিত, আর এটাই হল তার বাহ্যিক প্রকাশ।

আমাদের দেশের খুব কম আলেমদেরই জাকির নায়েকের মত টাই পড়ার যোগ্যতা আছে। কাজেই অযথা টাই নিয়ে বাড়া-বাড়ি করা ভাল না। তাছাড়া পোশাকের ধরণের মধ্যেই ইসলাম ধর্মের সকল বিষয় নিহিত নয়। যেমন সৌদি আরবে সাধারণত ইসলামী পোশাক হল লুঙ্গি-জুব্বা, পাকিস্তানে কাবুলি-সালোয়ার, বাংলাদেশে পায়জামা-পাঞ্জাবী, ইন্দোনেশিয়ায় প্যান্ট-সাফারী ইত্যাদি। সুতরাং দেশ ভেদে পোশাকের পরিবর্তন থাকতেই পারে। তাই বলে না জেনে কোন পোশাককে নাজায়েজ বলা যাবে না। পুরুষদের পোশাক সম্বন্ধে একটাই নির্দেশিকা আছে, তাহলো কোন অবস্থায়ই টাকনার নীচে কাপড় পরিধান করা যাবে না।

আমার প্রশ্ন হল, যে সকল সনদ-ধারী আলেম গন পাঞ্জাবী পরিধান করে টাকনার নীচে পায়জামা পরে অথবা নীচে ভাজ করে রাখে এবং সুবিধা মত ছেড়ে দেয়, তাদের চেয়ে কি ডঃ জাকির নায়েকের নেকটাই পরিহিত পোশাক খারাপ?  তাঁর পোশাক কি কোন অবস্থায়ই নিষিদ্ধ পোশাকের মধ্যে পরে?  অতএব যদি কারো টাই পরিধানের মত যোগ্যতা থাকে, তাহলে তা মোটেও নিষিদ্ধ নয়। অতএব টাই পড়া কখনওই ক্রুশের অনুকরণ বা শিরকী কাজ নয়। যদিও উত্তম বিষয়টি মহান আল্লহ রব্বুল আলামীনই ভাল জানেন, তারপরও এ বিষয়ে আরও অধিক জানার জন্য ইন্টারনেট মাধ্যমে নীচের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন:

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2008/9/questions-17.htm

http://en.allexperts.com/q/Islam-947/2009/9/Eating-non-muslium.htm 

You may also like...